চলতি মৌসুমে ভারতে তুলা রফতানি কমে ১৯ বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়ার প্রভাবে আমদানিকারক দেশগুলোয় তুলার চাহিদা দুর্বল হয়। তার ওপর পণ্যটির দামও বেশি। এ দুটি বিষয় রফতানিতে ধস নামার অন্যতম কারণ। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন। 

ভারতে গত বছরের অক্টোবরে তুলার ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে শুরু হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে দেশটির মোট তুলা রফতানি নামতে পারে ১৮ লাখ বেলে, যা প্রায় আমদানি পূর্বাভাসের সমান। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) কটন: ওয়ার্ল্ড মার্কেটস অ্যান্ড ট্রেড শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, চলতি মাসেই রফতানি পাঁচ লাখ বেল কমতে পারে।

গুজরাট প্রদেশের রাজকোটভিত্তিক তুলা, সুতা ও সুতা বর্জ্য ব্যবসায়ী আনন্দ পোপাট বলেন, ‘‌ˆমৗসুম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ লাখ ৫০ হাজার বেল তুলা রফতানি করা হয়েছে। এবার মোট রফতানি ২০ লাখ বেলের কাছাকাছিও পৌঁছতে পারবে না।’

ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত মূলত তুলা রফতানিকারক দেশ। অর্থাৎ দেশটি আমদানির চেয়ে বেশি তুলা রফতানি করে। কিন্তু এবার রফতানির চেয়ে আমদানি বেড়ে যেতে পারে। ২০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এমনটি ঘটতে যাচ্ছে।

তবে কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ বছর রফতানি ৩০ লাখ বেলে নামতে পারে। এর আগের মৌসুমে রফতানির পরিমাণ ছিল ৪৩ লাখ বেল। এ মৌসুমে ৩ কোটি ২১ লাখ বেল ‍তুলা উৎপাদন হতে পারে। আগের পূর্বাভাসে ৩ কোটি ৩০ লাখ বেল উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল। গত মৌসুমে দেশটিতে ৩ কোটি ৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হয়েছিল। সে হিসাবে এবার উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়বে। উৎপাদন বাড়লেও রফতানি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামবে।

ভারতীয় তুলার দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখীই। প্রতি ক্যান্ডি লেনদেন হচ্ছে ৬০ হাজার রুপিতে। গুজরাট স্টেট অব অপারেটিভ কটন ফেডারেশন লিমিটেডের সেক্রেটারি অজয় সাহা বলেন, ‘‌আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে আমাদের তুলার দাম বেশি। মূল্যস্ফীতির চাপে তুলার বৈশ্বিক চাহিদা নিম্নমুখী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপে চাহিদা তলানিতে নেমেছে। ভারত সাধারণত প্রতি বছর ৫০ লাখ বেলের বেশি তুলা রফতানি করে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, এ মৌসুমে তুলা রফতানির পরিমাণ থাকবে অত্যন্ত স্বল্প। বাংলাদেশই এবার সবচেয়ে বেশি তুলা আমদানি করবে। বাকি আমদানিকারকদের মধ্যে আমদানি নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। রফতানিতে ধস নামার আরেকটি বড় কারণ চীনের আমদানি না করা। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটি স্থানীয় উৎপাদন থেকেই চাহিদা পূরণের প্রয়াস চালাচ্ছে। অন্যদিকে ডলার সংকটে অন্যান্য বছরের তুলনায় বাংলাদেশও কম আমদানি করছে।

ভারতীয় তুলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা ভিয়েতনাম। এ মৌসুমে দেশটিও আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। 

কটন অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এ মৌসুমের মার্চ নাগাদ ভারতে তুলার মজুদ কমে দুই বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে বেশি পরিমাণে আমদানি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও আমদানি বাড়াতে সহায়তা করছে।