ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে কেনিয়ার চা রফতানি খাত। কেনিয়ার চায়ের অন্যতম প্রধান বাজার ইরান। খাতসংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কেনিয়া থেকে পানীয় পণ্যটির রফতানি ও এ খাতে দেশটির আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। খবর বিজনেস ডেইলি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে বা এক্সচেঞ্জের কঠোর নিয়ন্ত্রণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে দেশটিতে রফতানীকৃত চায়ের মূল্য পরিশোধ বিলম্বিত হতে পারে। এরই মধ্যে এ ঘটনার জেরে বিশ্বব্যাপী চায়ের বাজার মন্দায় পড়লে কেনিয়া সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছে দেশটির স্টেকহোল্ডাররা।

ইরানের বাজারে এরই মধ্যে কেনিয়া থেকে চা রফতানি কমেছে। ২০১৯ সালে তেহরানে সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ কেজি চা রফতানি করেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। ২০১৮ সালে রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯০ হাজার ১১১ কেজি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইরানে ৫৭ হাজার কেজি চা রফতানি কমেছে। এ খাতে দেশটির আয়ও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

আগে থেকেই ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। এর ওপর আবার গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক নতুন আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে রাজনীতির ছক পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে।

কেনিয়ার চা নিলাম বিশ্লেষক গিডেয়োন তুউই জানান, আক্রমণের ভয়ে দেশটির বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ইরানের বাজারে কৃষিপণ্যটি রফতানি করতে আগ্রহ হারাবেন। এতে দেশটির সামগ্রিক চা রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিদায়ী বছরের প্রথম থেকে কেনিয়ার চা রফতানিতে চাঙ্গা ভাব বজায় ছিল। তবে সেপ্টেম্বরে অপ্রত্যাশিতভাবে পণ্যটির রফতানি কমে যায়। কেনিয়া ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (কেএনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে দেশটি থেকে ৩৬ হাজার ৩২৫ টনের মতো চা রফতানি হয়েছে। আগের মাস অর্থাৎ আগস্টে রফতানি হয়েছিল ৪১ হাজার ২৭৫ দশমিক ৯৬ টন।

একই পরিস্থিতি বিদ্যমান দেশটির কফি খাতেও। এ সময় দেশটি থেকে ৩ হাজার ১৪৪ দশমিক ৭৩ টন কফি রফতানি হয়েছে। আগের মাসে রফতানি হয়েছিল ৩ হাজার ৯৩১ দশমিক ৮৯ টন।