চলতি বছর চীনে ২৬ কোটি ৬ লাখ ৭০১ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, ফসল কাটার আগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোকসান হলেও গত বছরের তুলনায় ভুট্টা উৎপাদন খুব কম হেরফের হয়েছে। খবর রয়টার্স।

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভুট্টা উৎপাদনকারী দেশটিতে ক্রমবর্ধমান ঘাটতির কারণে ভুট্টা উৎপাদন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এতে শস্যটির দাম বেড়েছে, আমদানি রেকর্ড স্তরে উন্নীত হয়েছে এবং অন্যান্য শস্য ক্রয়কে উৎসাহিত করছে। চীনের বিশাল প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভুট্টা মূল খাদ্যশস্য হিসেবে এবং এটি শিল্পজাতীয় পণ্যগুলোতেও ব্যবহূত হয়।

উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে টাইফুনের আঘাতের পর বিশ্লেষকরা অনুমান করেছিলেন, ভুট্টার উৎপাদন প্রায় এক কোটি টন কমবে। প্রতি মৌসুমে এ উদ্বেগের কারণে সরবরাহ ঠিক রাখতে বেইজিংকে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় খাদ্যশস্যটির বিশাল মজুদ কমিয়ে দিতে হয়েছে। তবে এবার বেইজিং জানিয়েছে, উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। গত বছর ২৬ কোটি ৭ লাখ টনের তুলনায় এ বছরের উৎপাদন খুব বেশি হেরফের হয়নি।

পরিসংখ্যান ব্যুরো এক বিবৃতিতে বলেছে, কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা ও ঝড়ের কারণে উৎপাদনে নির্দিষ্ট কিছু প্রভাব পড়েছিল। তবে পুরো অঞ্চলে মাঠ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী এবং দুর্যোগ রোধ ও এর প্রভাব কমিয়ে আনতে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও কিছু বিশ্লেষক ভুট্টার এ উৎপাদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

স্টোনএক্সের এশীয় পণ্যের বিশ্লেষক দারিন ফ্রেডরিচ বলেন, দেশটির উৎপাদন খুব বেশি বলে মনে হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষকৃত জমি ও উৎপাদন প্রায় একই রয়েছে। কিন্তু উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে পর পর তিনটি টাইফুন আঘাত হেনেছিল।

শেঙ্গদা ফিউচারের বিশ্লেষক মেং জিনহুইয়ের অনুমান, চলতি মৌসুমে চ্যালেঞ্জিং আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন সম্ভবত ৫০ লাখ টন কম হয়েছে।

এদিকে চীনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমান অনুযায়ী ২০২০-২১ মৌসুমে ভুট্টার উৎপাদন বেড়ে ২৬ কোটি ৪০ লাখ টনে পৌঁছেছে।

খাদ্য সুরক্ষায় বেইজিং অতিরিক্ত নজর দিয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে করোনাভাইরাস লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একদিকে যখন দেশটি লড়াই করছিল, অন্যদিকে তখন সময়মতো বসন্তের ফসল রোপণ শেষ করতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।