বেইজিংয়ের ঋণদান কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জেনেট ইয়েলেনের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র মাও নিং। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চীন ‘ঋণের ফাঁদে আটকে রেখেছে’—সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মাও নিং। খবর রয়টার্স।
জেনেট ইয়েলেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় কঠোর পরিশ্রম করছে ওয়াশিংটন।’
চীন উন্নয়নশীল দেশগুলোয় অবকাঠামো নির্মাণে শত শত কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে ঋণ দেয়া স্থবির হয়েছে। কারণ অনেক প্রকল্প প্রত্যাশিত আর্থিক লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইয়েলেন বলেছেন, চীন বিশ্বব্যাপী যেসব কার্যক্রমে নিয়োজিত, আমি এমন কিছু কার্যক্রমের বিষয়ে খুব উদ্বিগ্ন। কারণ সেসব কার্যক্রম দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে আটকে রাখে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন সরকার জানিয়েছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি বিশ্বের ঋণ ব্যবস্থা আরো খারাপ করেছে।
মাও নিং বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অযৌক্তিক অভিযোগ গ্রহণ করি না। অন্য দেশের দিকে অযৌক্তিক আঙুল তোলার পরিবর্তে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য তাদের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
চীন বলেছে, তারা সর্বদা আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করেছে এবং উন্মুক্ততা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন সহযোগিতা করেছে। চীনের দাবি, তারা সবসময় আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই উন্মুক্ততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বিনিয়োগ ও অর্থায়ন করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮-২১ সালের মধ্যে চীন ২২টি উন্নয়নশীল দেশে ২৪ হাজার কোটি ডলার বেলআউট করেছে।
বর্তমানে জাম্বিয়া, ঘানা ও শ্রীলংকার সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা করছে চীন। সেই সঙ্গে দেশটি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে ঋণ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।










