অবশেষে সুদহার কমিয়েছে ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)। গত বৃহস্পতিবার ৫ দশমিক ২৫ থেকে কমিয়ে সুদহার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ২০২০ সালের মার্চের পর সুদহার কমানোর ঘটনা যুক্তরাজ্যে এটিই প্রথম। খবর বিবিসি।
সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিওইর গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি। একই সঙ্গে সামনের মাসগুলোয় সুদহারে বড় আকারের কাটছাঁট আশা না করতেও সতর্কবার্তা দেন তিনি।
‘সুদহার বাড়ানোর উদ্দেশ্য এখনো পুরো অর্জিত হয়নি’ উল্লেখ করে অ্যান্ডু বেইলি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কমে আসায় সুদহার কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারকদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর জন্য খুব তাড়াতাড়ি কিংবা বেশি দেরিতে সুদহার কমানোর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে তাদের।’
এর আগে বিওইর নয় সদস্যের কমিটি সুদহার কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। গভর্নর অ্যান্ডু বেইলিও দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্টে কমানোর পক্ষে মত দেন। নয় সদস্যের চারজন সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হু পিল।
সুদহারের মাধ্যমে মূলত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে ব্যাংক বা ঋণদাতাদের কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এর আগে মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার অংশ হিসেবে বিগত কয়েক বছরে সুদহার বাড়িয়েছে বিওই। উচ্চ সুদহারের কারণে সঞ্চয়ের বিপরীতে মুনাফার পরিমাণ বাড়ে। একই সঙ্গে গৃহস্থালির ব্যয়েও লাগাম টানে। সুদহার ৫ শতাংশে কমিয়ে আনায় বন্ধকের বিপরীতেও প্রদেয় অর্থের পরিমাণ কমে আসবে। তবে নির্দিষ্ট হারে সুদ দেয়ার শর্তে নেয়া ঋণ পরিশোধে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সুদহার কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ক্ষয়িষ্ণু আস্থা ফেরাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্ডিফ মার্কেটের খাবার ব্যবসায়ী রুপালি ওয়েগ বলেন, ‘সুদহার কমানোয় আমি আশান্বিত। এতে আমার ব্যবসায়ের জন্য নেয়া ঋণের বিপরীতে এখন কম সুদ দিতে হবে। এছাড়া ভোক্তাদের হাতেও খরচ করার মতো যথেষ্ট অর্থ থাকবে।’
গ্রীষ্মের কারণে রুপালির ব্যবসায় লেনদেন বেড়েছে। কিন্তু ভোক্তারা আগের তুলনায় কম অর্ডার করছেন। এতে বেচাকেনাও কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘ভোক্তারা ব্যয়ের ব্যাপারে সংরক্ষণশীল হচ্ছেন। বন্ধক ও ব্যয় নিয়েও টেবিলে বসে প্রচুর আলোচনা করছেন তারা। আগে এসব নিয়ে এত আলোচনা দেখিনি।’
এদিকে সুদহার ভবিষ্যতে আরো কমানো হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে অ্যান্ডু বেইলি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নেই। ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিওই।’
ব্রিটেনের লেবার পার্টির নতুন সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ তাদের প্রথম বাজেট ঘোষণা করতে পারে। এটি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নভেম্বরে আবারো সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।










