ইউরোপে সুদহার কমানোর ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধি। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) কর্মকর্তারা এ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করেছেন। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

ইসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছরের শুরুতে ইসিবি সুদহার কমানোর কথা চিন্তা করছে। কিন্তু এরই মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। উচ্চ মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যাংকাররা। কারণ মজুরি বৃদ্ধি পেলে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে সুদহার কমানো কঠিন হয়ে উঠবে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের সময় ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ এবং আইএমএফের ফার্স্ট ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর গীতা গোপীনাথ জানিয়েছেন, মজুরি বৃদ্ধি পেলে প্রথম প্রান্তিকে সুদহার কমানোর যে প্রত্যাশা ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ইসিবির সাবেক অর্থনীতিবিদ ও বর্তমানে ফরাসি ব্যাংক নাটিক্সিসের কর্মকর্তা ডির্ক শুমাখার বলেছেন, ইসিবির সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে গ্রীষ্মকালে সুদহার কমানোর পূর্বাভাস সঠিক নাও হতে পারে। সাম্প্রতিক কথাবার্তা পরিবর্তনের কারণ মজুরি বৃদ্ধি।

জার্মানির আইজি বিএইউ ইউনিয়ন ৯ লাখ ৩০ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের মজুরি প্রতি মাসে ৫০০ ইউরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে, যা ন্যূনতম মজুরি পাওয়া বেশির ভাগ শ্রমিকের বেতন ২১ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান টি রো প্রাইসের অর্থনীতিবিদ টমাস উইলাডেক বলেছেন, জার্মান নির্মাণ শ্রমিকরা তাদের প্রাথমিক চাহিদার অর্ধেক মজুরি পেয়ে থাকেন এবং এটা কয়েক বছর ধরে চলছে। তবু ইসিবি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এখন মজুরি বাড়লে ইসিবির ভয় বাড়াটাই স্বাভাবিক।

ইউরোগ্রুপের প্রেসিডেন্ট প্যাসক্যাল ডনোহোয় বলেছেন, সুদহার কমানোর শুরুটা"কঠিন হতে চলেছে। তবে যত কঠিনই হোক, এটা সম্পন্ন করতে হবে।"যদি আমরা এটি করতে না পারি, তাহলে মূল্যস্ফীতি আমাদের অর্থনীতিতে স্থায়ী হতে পারে।

গত বছর বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, ইউরোজোনে ২ দশমিক ৯ ও যুক্তরাজ্যে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বিশ্লেষকরা মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে মজুরি বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়।

ব্রিটিশ ব্যাংক বার্কলেসের অর্থনীতিবিদ মার্ক কাস ব্যাবিক জানিয়েছেন, ইউরোপীয় শ্রমিকদের মজুরি অন্য অঞ্চলের তুলনায় কম। ফলে মজুরি কিছু সময়ের জন্য বাড়াতে হবে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে মজুরি বাড়ানোর লক্ষ্মণ দেখা দিয়েছে। নভেম্বর প্রান্তিকে বোনাস ব্যতীত আয়ের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের প্রান্তিকের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কম।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মুদ্রানীতি কমিটি সুদহার কমানোর সময় মজুরি বৃদ্ধির চাপ নিতে চাইবেন না। তবে মার্কিন পূর্বাভাসকারীরা বিশ্বাস করেন কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের আগের স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন।