আউন্সপ্রতি দামে প্রথমবারের মতো
মূল্যবান ধাতু স্বর্ণকে ছাড়িয়ে গেল প্যালাডিয়াম। শিগগিরই মূল্য আউন্সপ্রতি ২ হাজার
ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিটি গ্রুপ ইনকরপোরেশন আগামী বছর
প্যালাডিয়ামের দাম ২ হাজার ৫০০ ডলারে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। খবর
ব্লুমবার্গ।
চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা শুরুর ইঙ্গিতে
অটো মোবাইল শিল্প চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টানা ১৬
দিন বেড়েছে প্যালাডিয়ামের দাম। কারণ প্যালাডিয়ামের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় অটো মোবাইল
শিল্পে। এর মধ্যে প্যালাডিয়ামের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে খনি শিল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ
সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা তো রয়েছেই।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক
অলে হ্যানসেন বলেন, প্যালাডিয়ামের দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ডলারে পৌঁছে যাওয়ার প্রবণতা দেখা
যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ বাজারে চাঙ্গা ভাব বজায় রাখছে। এর মধ্যে চীন-মার্কিন
বাণিজ্য আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা নতুন করে হাওয়া দিতে শুরু করেছে।
শুক্রবার প্যালাডিয়ামের স্পট মূল্য ২
দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৮১ দশমিক ৩৯ ডলারে দাঁড়ায়। যেখানে গতকাল স্বর্ণের
স্পট মূল্য ছিল আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৬৪ ডলার। গত বছরের তুলনায় এখন
পর্যন্ত প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। যদিও অটো মোবাইলের বাজার বেশ দুর্বল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, খুবই
নিয়ন্ত্রিত সরবরাহের কারণে ২০১২ সাল থেকেই প্যালাডিয়ামের চাহিদা বাড়ছে। কারণ
দূষণবিরোধী আইনি কঠোরতার কারণে অটোমোবাইল শিল্পে ধাতুটির চাহিদার পাশাপাশি
ক্রেতাদের মজুদও বাড়ছে।
তবে এবিএন আমরো ব্যাংকের
স্ট্র্যাটেজিস্ট জিওরজেত বোয়েল বলছেন,
প্যালাডিয়ামের বাজার এখনো তুলনামূলক ছোট। এ
কারণে এর চাহিদা পতনের সঙ্গে সঙ্গে দামও হঠাৎ করে অনেক কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন যেমন খাড়াভাবে বাড়ছে,
পড়বেও ঠিক একইভাবে। এ ধাতুর বাজার চিরদিন
ঊর্ধ্বগামী থাকতে পারবে না।









