পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেন কমেছে। রাশিয়ার ফার্স্ট ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার আন্দ্রে বেলুসভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ২০২২ সালের এপ্রিল-ডিসেম্বরে ইইউর সঙ্গে রুশ বাণিজ্য এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। খবর আরটি।
এ প্রসঙ্গে আন্দ্রে বেলুসভ বলেন, ‘ইইউর সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। তবে একই সঙ্গে পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোয় বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়ছে। গত বছরের এপ্রিল-ডিসেম্বর পর্যন্ত তুরস্ক, মিসর ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে রুশ বাণিজ্য আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।’
রাশিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান তথ্য বলছে, ২০২০ সালে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য অংশীদার ছিল ইইউ। ওই সময়ে দেশটির সামগ্রিক বিদেশী পণ্য বাণিজ্যের ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেন করেছে ইইউ অঞ্চলে। রুশ আমদানির ৩৬ শতাংশেরও অধিক ইইউ থেকে আসে। পাশাপাশি দেশটির রফতানির ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ যায় ২৭টি দেশের জোট ইইউতে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে রাশিয়া ও ইইউ অঞ্চলের মধ্যে সামগ্রিক পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ইইউর আমদানির পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার কোটি ডলার। এর মধ্যে মূল পণ্য ছিল জ্বালানি ও খনিজ পণ্য। বিশেষ করে খনিজ জ্বালানি, কাঠ, লোহা ও ইস্পাত এবং সার।
জার্মানিভিত্তিক বিশ্ব অর্থনীতির বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কিয়েল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গত বছর রাশিয়ায় পণ্য রফতানি সংকুচিত করেছে ইইউ। জোটটি গত গ্রীষ্ম মৌসুমে ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম পণ্য রফতানি করেছে রাশিয়ায়। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে এশিয়া অঞ্চলে। গত গ্রীষ্মে চীন ২০২১ সালের তুলনায় রাশিয়ায় ২৩ শতাংশ বেশি পণ্য রফতানি করেছে।










