ভারতের চিনি উৎপাদন অর্ধেকে নেমে
এসেছে। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে সব মিলিয়ে ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টন চিনি
উৎপাদন হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময় উৎপাদন ছিল ৪০ লাখ ৬৯ হাজার টন। সে হিসাবে, দেশটির
চিনি উৎপাদন কমেছে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ভারতীয় চিনি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইন্ডিয়ান
সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের
(ইসমা)
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর
ইকোনমিক টাইমস।
চিনি উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে
ইসমার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
গত বছরে সারা দেশের ৪১৮টি সুগার মিলে আখ মাড়াই
করা হয়েছিল। যেখানে চলতি বছরে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৯টিতে। তবে এবার উত্তর
প্রদেশে আখ মাড়াই বেড়েছে। গত বছর রাজ্যটিতে ১০৫টি মিলে আখ মাড়াই করে ৯ লাখ ১৪
হাজার টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১১১টি মিলে
মাড়াইয়ের মাধ্যমে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের অন্যতম চিনি উৎপাদন
রাজ্য মহারাষ্ট্রে চলতি মৌসুমে আখ মাড়াইয়ে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ২২ নভেম্বর শুরু
হয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ মৌসুমে রাজ্যটিতে মাত্র ৪৩টি মিলে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে।
যেখানে গত বছরের একই সময় চালু হয়েছিল ১৭৫টি মিল। আর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যটিতে
মাত্র ৬৭ হাজার চিনি উৎপাদন হয়েছে। যেখানে গত বছরের এ সময়ের মধ্যে উৎপাদন ছিল ১৮
লাখ ৮৯ হাজার টন।
মহারাষ্ট্রের মতো একই অবস্থা
কর্ণাটকেও। রাজ্যটিতে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৬১টি সুগার মিলে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে। আর
এ সময়ের মধ্যে ৫ লাখ ২১ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। যেখানে গত বছরের এ সময়ের
মধ্যে রাজ্যটিতে ৬৩টি সুগার মিল চালু ছিল এবং ৮ লাখ ৪০ হাজার টন চিনি উৎপাদনে
সক্ষম হয়েছিল।
আর এ মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে ২০ দিনের মতো
দেরিতে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে গুজরাট রাজ্যে। ১৪টি সুগার মিলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত
রাজ্যটিতে ৭৫ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। যেখানে গত বছরের একই সময়ে ১৬টি মিলে
মাড়াইয়ের মাধ্যমে চিনি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫ হাজার টন।
এছাড়া অন্যান্য রাজ্যে এরই মধ্যে
প্রায় ৫০টি সুগার মিলে আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এসব
রাজ্যে সবমিলিয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে উৎপাদন
ছিল ২ লাখ ২১ হাজার টন।
ইসমা বলছে, এরই
মধ্যে এ মৌসুমে ১৫ লাখ টন চিনি রফতানির চুক্তি করা হয়েছে। যার অধিকাংশ গন্তব্য
বাজার হবে ইরান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও আফ্রিকার দেশগুলো।
কয়েক মাস ধরে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয়
রাজ্যগুলোতে মিলগেটে প্রতি কুইন্টাল চিনির দাম ৩ হাজার ২৫০ রুপি থেকে ৩ হাজার ৩০০
রুপির মধ্যে ছিল। আগামীতেও অপরিবর্তিত থাকবে। আর পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয়
রাজ্যগুলোতে মিলগেটে দাম থাকবে ৩ হাজার ১০০ রুপি থেকে ৩ হাজার ২৫০ রুপির মধ্যে।
এদিকে রাজ্য সরকারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯
চিনি মৌসুমসহ চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সুগার মিলগুলোর কাছে আখচাষীদের ৫
হাজার কোটি রুপি বকেয়া পড়েছে। যে খাতে ২০১৭-১৮ মৌসুমসহ গত বছরের একই সময় পর্যন্ত
বকেয়া ছিল ৮ হাজার কোটি রুপি।









