তবে কোম্পানির পূর্বাভাস ওয়াল স্ট্রিটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। ফলে পুঁজিবাজারে নেটফ্লিক্সের শেয়ারের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। খবর রয়টার্স।

নেটফ্লিক্স গত বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাসের কথা জানায়। এর পর পরই লেনদেন পরবর্তী সময়ে কোম্পানির শেয়ারদর প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৬৭ ডলার ৯৯ সেন্টে নেমে আসে।

কোম্পানির কো-সিইও টেড সারানডোস ও গ্রেগ পিটার্স জানান, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে ১ হাজার ২৮৬ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ (ইপিএস) হতে পারে ৮২ সেন্ট। তবে এলএসইজির তথ্যানুযায়ী, বিশ্লেষকদের আয়ের পূর্বাভাস ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার এবং শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ ৮৪ সেন্ট।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহক সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও বর্তমানে নতুন উপায়ের সন্ধানে কাজ করছে নেটফ্লিক্স। কোম্পানিটি এখন বিজ্ঞাপন, লাইভ ইভেন্ট ও ভিডিও গেমসের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। তবে চলতি বছর বিনিয়োগকারীদের সংশয়ের কারণে কোম্পানিটি এরই মধ্যেই বাজারমূল্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হারিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক পাওলো পেসকাতোরে বলেন, ‘সাম্প্রতিক পূর্বাভাসটি ব্যবসার হঠাৎ কোনো অবনতি নির্দেশ করে না। এটি মূলত কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও ব্যবসার স্বাভাবিক পরিপক্বতার প্রতিফলন। তবে নেটফ্লিক্স এখনো শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও তুলনামূলক ধীরগতির প্রবৃদ্ধির যুগে প্রবেশ করছে।’

নেটফ্লিক্স জানায়, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি ভিউয়িং-আওয়ার বা দর্শকের দেখার সময়ের প্রতিবেদন বছরে দুইবারের পরিবর্তে একবার প্রকাশ করবে। মূলত আয় ও পরিচালন মুনাফার মতো মূল আর্থিক বিষয়গুলোয় মনোযোগ ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সাল থেকে কোম্পানিটি প্রতি প্রান্তিকের গ্রাহক সংখ্যা প্রকাশ করাও বন্ধ করে দেয়।

সদ্যসমাপ্ত প্রান্তিকে নেটফ্লিক্সের আয় ও ইপিএস বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের কাছাকাছি ছিল। এপ্রিল-জুন তিন সে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ হয়েছে ৮০ সেন্ট ও মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ডলারে। গত প্রান্তিকে ক্রাইম ড্রামা ‘আই উইল ফাইন্ড ইউ’ ও অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘সোয়াপড’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়।