মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুদহার বাড়াতে বাড়াতে ২২ বছরের সর্বোচ্চে তুলেছে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। এতে সুফল মিললেও এখনো লক্ষ্যমাত্রার নিচে আনা যায়নি সুদহার। যদিও ফেড আশঙ্কা করছে, মুদ্রানীতি আরো কঠোর করলে তা মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় সুদহার নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে সংস্থাটি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সদস্যরা সুদহার না বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়েছিলেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যে মুদ্রানীতি নেয়া হয়েছে সেটি কতটা কঠোর ও কার্যকর সে বিষয়টি নিশ্চিতের জন্যই সুদহার না বাড়ানোর মত দিয়েছিলেন তারা। ২০২২ সালের মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১১ বার সুদহার বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে ফেডারেল সুদহার ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন ফেডের প্রধান জে পাওয়েল। তিনি জানান, অর্থনীতির শক্তিমত্তা, শ্রমবাজারের স্থিতিশীল অবস্থা ও ভোক্তা ব্যয় বাড়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার তুলনায় প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরো কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটিই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

পাওয়েল বলেন, ‘অতীতে ব্যাংক সুদহার বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। তাই ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

গত সেপ্টেম্বরে ফেডের সর্বশেষ বৈঠকের পর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে কোম্পানিগুলোর ঋণ গ্রহণের ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে। পাওয়েল জানান, অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি স্থায়ী হবে কিনা তা এখনই নির্ধারণ করা যাবে না। এমনকি ফেডও স্বীকার করেছিল যে কঠোর অর্থনৈতিক অবস্থা আবারো বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এটি কতটা স্থায়ী হবে সে বিষয়ও অজানা।

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, হয়তো আগামী বছর থেকে ফেড সুদহার কমাবে। তবে পাওয়েল জানান, বর্তমানে নীতিনির্ধারকরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না। তিনি বলেন, ‘কমিটি বর্তমানে সুদহার কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।’

সম্প্রতি দেয়া বক্তব্যে পাওয়েল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে চাকরি পাওয়ার হারও স্বাভাবিক ছিল।

কিছু অর্থনীতিবিদ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি কমে আসার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। যে কারণে ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি অর্জনে ফেডের লক্ষ্যমাত্রাও প্রভাবিত হবে এবং ঋণ গ্রহণে ব্যয় বাড়বে।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী পর্যায়ে। বর্তমানে প্রত্যাশার তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগও বেশি। 

এর আগের সপ্তাহে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, দেশটিতে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি। কিন্তু উৎপাদন কার্যক্রম পূর্বাভাসের তুলনায় কমেছে।