রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানিতে শুল্কারোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কৃষকদের বিক্ষোভ ও ব্লকটির কিছু সদস্যদেশের চাপের মুখে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইইউ। খাতসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
এতে বলা হয়, আগামী দিনগুলোয় রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে প্রতি টন খাদ্যশস্য আমদানিতে ৯৫ ইউরো (১০৩ ডলার ২০ সেন্ট) শুল্ক আরোপ করতে পারে ইউরোপিয়ান কমিশন। পাশাপাশি তেলবীজ ও এটি থেকে উৎপাদিত পণ্যে আরোপ করা হতে পারে ৫০ শতাংশ শুল্ক।
এমনটি ঘটলে এটিই হতে যাচ্ছে রুশ খাদ্যপণ্যের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম কোনো বিধিনিষেধ। এর ফলে ব্লকটিতে রুশ খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। শূন্যের কোটায় নামতে পারে দেশটি থেকে আমদানীকৃত খাদ্যের চাহিদা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইইউর এক কর্মকর্তা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘দানাদার খাদ্যশস্যের দাম চার বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। এসব পণ্যের বাজারে রাশিয়ার প্রতিযোগী সক্ষমতা অনেক বেশি। এ বিধিনিষেধ বাস্তবে রূপ নিয়ে রাশিয়ার খাতটি চাপের মুখে পড়বে।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতি মেনে রুশ শস্যের ওপর সর্বোচ্চ শুল্কারোপ করা হতে পারে।
রুশ ও বেলারুশিয়ান খাদ্যশস্যের ওপর শুল্কারোপের জন্য ইউরোপিয়ান কমিশনকে লম্বা সময় ধরেই চাপ দিচ্ছে পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলো। তবে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, এমন আশঙ্কায় এতদিন সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করেনি কমিশন।
প্রসঙ্গত, ইইউর দেশগুলোয় ২০২৪ সালে দানাদার খাদ্যশস্য ও তেলবীজের ফলন কমতে পারে বলে সম্প্রতি পূর্বাভাস দিয়েছে কৃষি ব্যবসাবিষয়ক অ্যাসোসিয়েশন কোসিরাল। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ ইইউভুক্ত ২৭ দেশে চলতি বছর খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৮ কোটি ১৭ লাখ টনে, যা ২০২৩ সালের ২৮ কোটি ৭১ লাখ টন থেকে কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে ২০২৪ সালে মোট ১৩ কোটি ৪২ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে, যা ২০২৩ সালের ১৩ কোটি ৯৫ লাখ টন থেকে কম। অ্যাসোসিয়েশন উল্লেখ করেছে, ডিসেম্বরে রেকর্ড বৃষ্টিপাত ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, বাল্টিকস ও পোল্যান্ডে গম/বার্লির মতো শীতকালীন শস্য রোপণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।










