একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপক কিংবা নির্বাহীরা যখন কোম্পানির বেশির ভাগ শেয়ার কিনে নেন তখন বিষয়টিকে ম্যানেজমেন্ট বাইআউট (এমবিও) বলা হয়। জাপানের বড় কোম্পানিগুলোয় এখন এ এমবিওর প্রবণতা বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে পুঁজিবাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমানে জাপানি কোম্পানিগুলোর ওপর বিনিয়োগকারীদের চাপ অব্যাহত বাড়ছে। ফলে দেশটির একের পর এক বড় কোম্পানি পাবলিক লিমিটেড থেকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হচ্ছে। খবর দ্য জাপান টাইমস।

টোকিওভিত্তিক একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ পরামর্শদাতা সংস্থা রেকফের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে জাপানে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইয়েনেরও বেশি এমবিও চুক্তি হয়েছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। এ রেকর্ডের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তাইশো ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বড় আকারের এমবিও চুক্তিগুলো। এমবিও চুক্তির অধীনে একটি কোম্পানি প্রাইভেট কোম্পানিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ এর পর থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সহজেই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ওই কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন না। এমবিওর ফলে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যাও সীমিত হয়ে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগকারী ও মুদ্রাবাজারসংশ্লিষ্টদের চাপ বাড়ছে। কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আরো বেশি মুনাফা, দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও বড় অংকের লভ্যাংশ প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা। অযৌক্তিক প্রত্যাশার কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে। তার ওপর আর্থিক প্রতিবেদন ও লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্সসহ রেগুলেটরি ব্যয়ের চাপ তো রয়েছেই। এসব জটিলতা এড়াতে অনেক কোম্পানিই পাবলিক থেকে প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডে পরিণত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। 

জাপানে লম্বা সময় ধরেই বিশ্বাস করা হতো যে একটি কোম্পানি পাবলিক হওয়ার মাধ্যমে খ্যাতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে এবং এতে মানব সম্পদ ও ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অনেক বেশি সহজ হয়ে পড়ে। তবে কয়েক বছর ধরেই পাবলিক কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের অনেক বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এক্টিভিস্ট বিনিয়োগকারীরা অনেকদিন ধরেই সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। 

দ্য জাপান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাপানের শীর্ষ ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি তাইশো ফার্মাসিউটিক্যালস এমবিও চুক্তির মাধ্যমে প্রাইভেট কোম্পানিতে পরিণত হচ্ছে। অ্যাক্টিভিস্ট বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কয়েক দফা বিরোধের পর প্রাইভেট হয়েছে তোশিবাও। ২০২২ সালে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করে রাষ্ট্রায়ত্ত জাপানি বিনিয়োগকারী গ্রুপ ‘জাপান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (জেআইসি)’।