সাম্প্রতিক সময়ে কমতে শুরু করেছে ভারতীয় তুলা রফতানির পরিমাণ। ইউএস বাজার আদর্শের তুলনায় ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্যে উচ্চ প্রিমিয়াম চার্জ করায় রফতানি কমার দৃশ্য অনুভব করা যায়। মূলত পণ্যটির উৎপাদন কমার আশঙ্কায় বাড়তি প্রিমিয়াম চার্জ করছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। একই সময়ে স্থানীয় টেক্সটাইলস মিলসগুলোয় তুলার চাহিদাও বেশ উচ্চমাত্রার বলে জানান শিল্পসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দ্বারা উচ্চ প্রিমিয়াম হার নির্ধারণের ফলে এশিয়ার ক্রেতারা অন্য তুলা রফতানিকারক দেশের প্রতি ঝুঁকতে পারে। বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো ক্রেতারা তুলা আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর মুখাপেক্ষী হতে শুরু করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে তুলা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারত শীর্ষস্থান দখল করে আছে।
মুম্বাইভিত্তিক কোটাক জিনিং অ্যান্ড প্রেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক বিনয় কোটাক বলেন, রফতানি এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। আমরা বাংলাদেশের কাছে স্বল্প পরিমাণে বিক্রি করলেও অন্য ক্রেতারা ভারত থেকে তুলা আমদানি করছে না।
২০২১-২২ মৌসুমে ভারতের তুলা উৎপাদন কমে ৩ কোটি ৪০ লাখ বেলে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এর আগের মৌসুমের তুলনায় ৪ শতাংশ কম। বপন মৌসুমে দেশটির শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোয় বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি স্পট মার্কেটে ভারতীয় তুলার দৈনিক লেনদেন কমে ১ লাখ ৭৫ হাজার বেলে দাঁড়িয়েছে, যা এর আগের বছরে ছিল সাধারণত ২ লাখ ৫০ হাজার বেল।
ডিলাররা জানান, কৃষকরা উৎপাদন হ্রাসের ফলে মজুদ উন্মুক্ত করতে ধীরগতি অবলম্বন করছেন। পরবর্তী সময়ে মূল্যবৃদ্ধি পেতে পারে এ আশায় এমনটা করছেন।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির জন্য বাংলাদেশে সরবরাহকৃত ভারতীয় তুলার চুক্তি মূল্য ব্যয় ও পরিবহন মূল্যসহ প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতি পাউন্ড ১৩৫ সেন্ট, যা ইউএস ফিউচারের তুলনায় ২০ সেন্ট বেশি। বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিলারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এমনটা দেখা যায়। সাধারণত ভারত ইউএস ফিউচারের তুলনায় প্রতি পাউন্টে ৫-১০ সেন্ট বেশি প্রিমিয়াম চার্জ করছে।
স্থানীয় বাজারে রেকর্ড উচ্চমূল্য ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে ভারতীয় তুলা রফতানির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিনয় কোটাক। তিনি জানান, চলতি বিপণন মৌসুমে ভারত মাত্র ৪০ লাখ বেল (প্রতি বেল=১৭০ কেজি) তুলা রফতানি করতে সক্ষম হবে। এর আগের মৌসুমে ভারতীয় তুলা রফতানির পরিমাণ ছিল ৭৮ লাখ বেল। মূলত আমদানিকারকরা প্রতিদ্বন্দ্বী তুলা সরবরাহকারী দেশগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়ার ফলে ভারতীয় তুলা রফতানিতে এ নেতিবাচক দৃশ্য দেখা যাবে বলে মনে করছেন এ ব্যবসায়ী।
ডিলাররা বলছেন, চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত ভারতীয় মিলগুলো ১৮ লাখ বেল তুলা রফতানি করেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তারা আরো ১০ লাখ বেল তুলা রফতানি করতে পারে।
মুম্বাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, কিছু বাংলাদেশী ব্যবসায়ী উচ্চমূল্যে ভারতীয় তুলা আমদানির চুক্তি করছে, কারণ তাদের দ্রুত জাহাজীকরণ ও ডেলিভারির নিশ্চয়তা প্রয়োজন। ভারতের রফতানীকৃত তুলার প্রায় অর্ধেক সড়কপথে বাংলাদেশে রফতানি করা হয়, যা অন্যান্য তুলা রফতানিকারক দেশগুলোর তুলনায় অতি সহজে আমদানি সরবরাহ নিশ্চিত করে। ভারত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তুলা আমদানি করে বাংলাদেশ। তবে মার্কিন তুলার সরবরাহ শুধু মার্চের পরই পাওয়া যায়। এসব তুলার সরবরাহ ঠিক কবে নাগাদ এসে পৌঁছবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমনকি মহামারীকালীন শ্রমিক সংকট বন্দরে জট তৈরি করতে পারে বলেও জানান এক ডিলার।










