আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় উল্লম্ফনের পূর্বাভাস দিয়েছে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। জোটটি বলছে, চীন কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করায় বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি ফিরতে পারে। ফলে শিল্প-কারখানাসহ অন্যান্য খাতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে ব্যাপক হারে। খবর রয়টার্স।
ওপেক বুধবার মাসভিত্তিক এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী বছর দৈনিক ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে, যা চলতি বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
চলতি বছর বেশ কয়েকবার রেকর্ড মাত্রায় চীনে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় শ্লথগতি তৈরি হয় অর্থনীতিতে। এতে কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটি জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
ওই প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। প্রধান অর্থনীতির দেশগুলো এখনো নিম্নমুখী ঝুঁকিতে। তবে চীনের অর্থনীতি গতিশীল হওয়ার যে সম্ভাবনা তা বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারসাম্য আনতে পারে।
প্রতিবেদনে ওপেক আরো জানায়, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। আগামী বছর প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্তে অটল ওপেক ও এর মিত্র জোট ওপেক প্লাস। আগের মতোই মাসে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমাবে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর এ জোট। ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল রাখতেই এ সিদ্ধান্ত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওপেক প্লাস জানায়, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত অক্টোবরেই প্রতি মাসে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। বিগত দিনগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজার অংশীজনদের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল।
২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে অর্থনীতিগুলোয় স্থবিরতা নেমে আসে। ধস নামে জ্বালানি তেলের চাহিদায়। ব্যাপক দরপতন দেখা দেয়া পণ্যটির বাজারদরে। এ পরিস্থিতিতে ওই বছরের এপ্রিলে জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক প্লাস। ওই সময় প্রতি মাসে দৈনিক এক কোটি ব্যারেল করে উত্তোলন কমাতে একমত হয় জোটের সদস্যরা। তবে ২০২১ সালের শুরু থেকেই করোনা পরিস্থিতি শিথিল হতে শুরু করলে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের চাহিদা। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি।
এ বছর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির হার আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উন্নত দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা সংকোচন নীতি গ্রহণ করে। ফলে আবারো বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা কিংবা স্থবিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের চাহিদা। এ কারণেই ওপেক প্লাস আবারো উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নভেম্বরে ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে। শীর্ষ রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় সদস্য দেশ উত্তোলন বাড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
বার্তা সংস্থায় রয়টার্সের এক সমীক্ষায় বলা হয়, ওপেকের মিত্র জোট ওপেক প্লাস উত্তোলন আগের তুলনায় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খারাপ হতে থাকা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল এর মূল্য উদ্দেশ্য। এ ধারাবাহিকতায় গত মাসে উত্তোলন কমেছে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটটি গত মাসে দৈনিক ২ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। অক্টোবরের তুলনায় উত্তোলন দৈনিক ৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে কমেছে। অথচ সেপ্টেম্বরে জোটটির উত্তোলন বেড়ে দুই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল।










