বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অনুষদ সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন।

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এনএসইউর কোষাধ্যক্ষ ও উপ-উপাচার্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুর রব খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বিজয় দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আজকের দিনটি জাতির জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেশকে এগিয়ে নেয়ার সাহস ও শক্তি জোগায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব নয়। ন্যায়বিচার ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের সব স্তরের মানুষ এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ নিয়ে সংগ্রাম হয়েছিল, তার অনেক বিষয় এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রসমাজ যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা দেশ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হতে সহায়তা করে।

বিশেষ অতিথি বেনজীর আহমেদ বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবময় দিন। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

—বিজ্ঞপ্তি