ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে নভেম্বরে চীনের কয়লা আমদানি বেড়েছে যথাক্রমে ১৬ ও ৩০ শতাংশ। শীতকালীন বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহার বাড়ায় আমদানি বাড়িয়েছে এশিয়ার এ দেশটি। পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্য সুবিধাও আমদানি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
চীনের কাস্টমস বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত মাসে জ্বালানি খাতের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি ১ কোটি ৮৩ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে অক্টোবরে ১ কোটি ৫৮ লাখ টন কয়লা আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু আগের বছরের একই সময় এর পরিমাণ ছিল দুই কোটি টন। নভেম্বরে চীনের কয়লা আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৩৫ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। কয়লার দাম কমা এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি আরো কমিয়েছে চীন। অক্টোবরে মস্কো থেকে ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছিল বেইজিং। তবে নভেম্বরে তা ৭৩ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে, যা গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন আমদানির রেকর্ড।
এদিকে মঙ্গোলিয়া থেকে ধাতব কয়লা আমদানি বাড়িয়েছে দেশটি। অক্টোবরে ৫০ লাখ টন আমদানি করলেও নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ লাখ ৯০ হাজার টনে। ২০২২ সালের পর মঙ্গোলিয়া থেকে এ-যাবৎ আর কখনই এ পরিমাণ কয়লা আমদানি করেনি চীন। তবে ডিসেম্বরে স্থলবেষ্টিত দেশটি থেকে কয়লা আমদানি কিছুটা কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কেননা শীতকালীন ভারি তুষারপাতের কারণে সড়কপথে কয়লা পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চীনের কাস্টমস তথ্য বলছে, নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানি বেড়ে ৬২ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছেছে, যা চলতি বছর তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক আমদানি। এছাড়া অক্টোবরে আমদানি করা ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টনের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি বলেও জানা গেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কয়লা বাণিজ্যে অস্ট্রেলিয়ার ওপর থেকে প্রায় দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় চীন। এর পর থেকে চীনের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে বলেও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।










