আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ নয় মাস পর ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল ৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম রয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৪৭ ডলারের ওপরে। মূলত কভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে আশা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জ্বালানি তেলের বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসের মধ্যভাগে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ৩৪ সেন্ট বেড়েছে। এ সময় ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৫০ ডলার ৫৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। একইভাবে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট। এদিন ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৭ ডলার ১৫ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি।
চলতি বছরের মার্চের পর বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। গত মার্চে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উঠেছিল ৫১ ডলার ৬ সেন্টে। আর ওইসময় ডব্লিউটিআই বিক্রি হয়েছিল ব্যারেলপ্রতি ৪৭ ডলার ৭৪ সেন্টে।
জ্বালানি তেলের বাজারে এ উল্লম্ফনের পেছনে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে আশার আলোকে চিহ্নিত করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষদের মধ্যে ফাইজারের তৈরি ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বাহরাইন, কানাডা ও সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের করোনার এ ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ শুরুর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে ফাইজার।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভ্যাকসিনের প্রয়োগ যতই বাড়বে, মহামারী পরিস্থিতি শেষ হওয়ার আশাবাদ ততই জোরালো হবে। বাড়বে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা। এর প্রভাব পড়বে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে। করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে বাড়তে থাকবে জ্বালানি পণ্যটির দাম। তাই এ মুহূর্তে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যনির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে করোনা ভ্যাকসিন।










