নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী শুরুর আগে ইন্দোনেশিয়ার কয়লা শিল্প প্রবৃদ্ধির পথে এগোচ্ছিল। তবে মহামারীতে অন্যান্য খাতের মতো ইন্দোনেশিয়ার কয়লা শিল্পও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের জন্য কয়লার বার্ষিক উত্তোলন লক্ষ্য কমিয়ে আনতে বাধ্য হয় দেশটি। বেঁধে দেয়া হয় নতুন লক্ষ্য। বছর শেষ হওয়ার আগেই জ্বালানি পণ্যটি উত্তোলনের নতুন লক্ষ্য পূরণ করেছে দেশটি। তবে দীর্ঘমেয়াদে কয়লার দাম তুলনামূলক কম থাকতে পারে। খবর রয়টার্স ও জাকার্তা পোস্ট।
কয়লা উত্তোলনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তারিকায় ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ষষ্ঠ। তবে জ্বালানি পণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় দেশটি দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গত বছর কয়লার মোট বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ১৮ দশমিক ২ শতাংশ দেশটি এককভাবে জোগান দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার মিনিস্ট্রি অব এনার্জি অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেসের পক্ষ থেকে ২০২০ সাল সব মিলিয়ে ৬০ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে জ্বালানি পণ্যটির বার্ষিক উত্তোলন লক্ষ্য ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়। ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রী আরিফিন তাসরিফ দেশটির পার্লামেন্টে এ তথ্য জানান।
সম্প্রতি দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব খনিগুলো থেকে সব মিলিয়ে ৫১ কোটি ৪২ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করেছে ইন্দোনেশিয়া। সেই হিসাবে বছর শেষের আগেই কয়লা উত্তোলনের সংশোধিত বার্ষিক লক্ষ্য পূরণ করেছে দেশটি। তবে ২০২০ সালের জন্য আগের প্রাক্কলিত উত্তোলন লক্ষ্য থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার কয়লা শিল্প। ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে প্রাথমিক লক্ষ্যের ৯৩ শতাংশ কয়লা উত্তোলন হয়েছে।
কয়লা শিল্প নিয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করতে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ডিরেক্টর অব কোল সুজাতমিকো সম্প্রতি বলেন, ২০২০ সাল শেষে সব মিলিয়ে ৫৫ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের আশা করছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। এর মধ্য দিয়ে সংশোধিত লক্ষ্যের তুলনায় অতিরিক্ত ছয় কোটি টনের বেশি কয়লা উত্তোলন হতে পারে। তবে করোনা মহামারীর কারণে প্রাথমিক লক্ষ্যের তুলনায় জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমতে পারে পাঁচ কোটি টন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২০২১ সালের জন্য সব মিলিয়ে ৫৫ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। তবে মহামারী পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকলে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলনে এ লক্ষ্য ফের সংশোধন করা হতে পারে বলে জানান সুজাতমিকো।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা মহামারীর মধ্যেও চলতি বছরের শুরু থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উত্তোলন হওয়া ৫১ কোটি ৪২ লাখ টন কয়লার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও রফতানি বাজার মিলিয়ে ৪৭ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন বিক্রি করেছে ইন্দোনেশিয়া। বাকি কয়লা মজুদ রয়েছে।
গত অক্টোবরে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি আউটলুকে বলা হয়েছিল, ২০২০ ও ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন কয়লার গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৫৭ ডলারে। গত বছর জ্বালানি পণ্যটির গড় দাম ছিল টনপ্রতি ৭৮ দশমিক ৩ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কয়লার গড় দাম কমতে পারে টনে ২১ দশমিক ৩ ডলার। করোনা মহামারীর কারণে ইন্দোনেশিয়াসহ শীর্ষ উত্তোলন ও রফতানিকারক দেশগুলোয় উত্তোলন ও রফতানি খাতে বিদ্যমান শ্লথতা বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি পণ্যটির গড় দামের প্রাক্কলন কমিয়ে এনেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়া কোল মাইনিং অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘমেয়াদে কয়লার দাম কম থাকতে পারে বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিশ্ববাজারে চাহিদা বৃদ্ধি ছাড়া কয়লার দাম বাড়বে না। আর মহামারীর ধাক্কা সামলে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা বাড়তে বাড়তে আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধ (জুলাই-ডিসেম্বর) চলে আসবে। ফলে তার আগে কয়লার বাজার চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।










