ভারতে গত মাসে পাম অয়েল আমদানি কমে নয় মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা পণ্যটি ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়েছেন। বিপরীতে তারা কম দামের সূর্যমুখী তেল আমদানি বাড়িয়েছেন। ডিলারদের দেয়া তথ্যের বরাতে এমনটা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ভারত বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক। দেশটিতে পাম অয়েল আমদানি কমে যাওয়ার খবরে নিম্নমুখী চাপে পড়তে পারে পণ্যটির দাম। তবে বিষয়টি কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে সূর্যমুখী তেলের মজুদ কমাতে সহায়তা করবে।

ডিলারদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পাম অয়েল আমদানি আগের মাসের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫ লাখ ৪ হাজার টনে নেমেছে, যা গত বছরের মে মাসের পর সর্বনিম্ন।

ভোজ্যতেল বাণিজ্য ও ব্রোকার প্রতিষ্ঠান জিজিএন রিসার্চের ম্যানেজিং পার্টনার রাজেশ পাটেল বলেন, ‘‌পাম অয়েল আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। আমদানি মূল্য বেশি হওয়ায় এতে লাভের বদলে লোকসান হচ্ছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা বর্তমানে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আমদানি বাড়াচ্ছেন।’

পাম অয়েলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পণ্য সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল। সাধারণত বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের চেয়ে কম দামেই পাম অয়েল ‍বিক্রি হয়। কিন্তু বাজারে বর্তমানে এ প্রবণতার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় রেকর্ড পরিমাণ সয়াবিন তেল উৎপাদন হয়েছে। ফলে এক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাম অয়েলের চেয়েও কম দামে মিলছে সয়াবিন তেল। সূর্যমুখী তেলের বাজারও একই প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ভারত বর্তমানে এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েল ৯৬৫ ডলারে (ব্যয়, বীমা ও জাহাজ ভাড়াসহ) আমদানি করছে। বিপরীতে সয়াবিন তেল টনপ্রতি ৯৫০ ও সূর্যমুখী তেল ৯২৮ ডলারে আমদানি হচ্ছে।

ডিলারদের দেয়া তথ্যমতে, গত মাসে দেশটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টন সূর্যমুখী তেল আমদানি করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। তবে সয়াবিন তেল আমদানি আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ লাখ ৭৪ হাজার টনে নেমেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হয় পাম অয়েল। বিপুল সরবরাহ ও প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য তেলের তুলনায় সাশ্রয়ী হওয়ায় ব্যবসায়ীদের কাছে এর কদর বেশি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দাম কমে যাওয়ায় পাম অয়েলের চাহিদা কমছে। পাম অয়েল ক্রেতারা দামের সুবিধা নিতে প্রতিদ্বন্দ্বী এসব তেলের বাজারে ঝুঁকছেন। এতে পণ্যটির মূল্য পুনরুদ্ধার ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।