টানা চার মাসের বেশি সময় ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর অক্টোবরে মিসরের মূল্যস্ফীতি কমে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের মাসে এ হার ছিল ৩৮ শতাংশ। সম্প্রতি দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা ক্যাপমাস প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

জুনের পর থেকে দেশটির মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম গতিতে বাড়তে থাকে এবং ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশে আসে। ক্যাপমাসের তথ্যানুযায়ী, মিসরের মাসভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হারও সেপ্টেম্বরের ২ থেকে অক্টোবরে ১ শতাংশ নেমে এসেছে। অক্টোবরে মিসরে মূল্যস্ফীতি কমে আসার হার বিশ্লেষকদের পূর্বানুমানের চেয়েও বেশি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৯ বিশ্লেষক এ বিষয়ে এক জরিপে অংশ নিয়েছিলেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। ফলে সর্বাধিক জনসংখ্যার আরব দেশ ও গম আমদানিকারক মিসর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে। এর পরের মাস মার্চ থেকে দেশটির সরকার তিনবার মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে এবং তখন থেকে পাউন্ড অর্ধেকেরও বেশি মূল্য হারিয়েছে। সে সময় থেকে আরব বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি ডলার সংকটের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

অক্টোবরে মিসরের ব্যাংকগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ডেবিট কার্ডে বিদেশী মুদ্রায় লেনদেন স্থগিত ঘোষণা করে। বিদেশী মুদ্রার ব্যয় রোধ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুতে দ্বিতীয়বারের মতো মিসরের ক্রেডিট স্কোর কমিয়েছে ফিচ রেটিংস। মূলত অর্থনৈতিক ক্ষত সংস্কারের উদ্যোগ ধীরগতির হওয়ায় ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি।