২০২৪ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে সরকারি প্রচারণায় ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) পাউন্ডের বেশি ব্যয় করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ থেকে শুরু করে কল্যাণমূলক নানা বিষয়ে সরকারের বার্তা পৌঁছতে এ কৌশল নেয়া হয়েছে। তরুণদের কাছে পৌঁছতে টিকটকের মতো প্লাটফর্মকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২১৫ জন ইনফ্লুয়েন্সার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর নিয়োগ দেয়া হয় ১২৬ জনকে। অর্থাৎ এক বছরে ইনফ্লুয়েন্সার নিয়োগ সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

দেশটির স্থানীয় তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে শিক্ষা বিভাগ। ২০২৪ সাল থেকে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড খরচ করেছে বিভাগটি। চলতি বছর তারা ৫৩ জন ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করেছে। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচার মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও পেনশন বিভাগ (ডিডব্লিউপি) ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহারে শীর্ষ সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে। চলতি বছর আটজন ইনফ্লুয়েন্সারের পেছনে ১ লাখ ২০ হাজার ২৩ পাউন্ড খরচ করেছে ডিডব্লিউপি। গত বছর কোনো ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করেনি বিভাগটি।

ব্রিটিশ সরকারের ব্যবসা ও বাণিজ্য বিভাগ ২০২৫ সালে ৩৯ হাজার ৭০০ পাউন্ড ব্যয় করেছে। বিভাগটি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মোট ১৭ জন ইনফ্লুয়েন্সার নিয়োগ দেয়। এ তালিকায় ছিলেন বেলা রবার্টস, কৃষ কারা, নোয়া ব্রায়ারলি, রোটিমি মেরিম্যান জনসন (মিস্টার মানিজার), বেথ ফুলার ও জ্যাসমিন শুম।

ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহারের এ প্রবণতা নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সমালোচনাও রয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিটের প্রেস লবি ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, এতে সরকারি নীতির ওপর কঠোর প্রশ্ন করার সুযোগ কমে যেতে পারে। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের নির্বাহী যোগাযোগ পরিচালক টিম অ্যালান জানিয়েছেন, প্রথাগত গণমাধ্যমে যারা যুক্ত হন না, এমন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছতে এ মাধ্যম কার্যকর।

তরুণদের কাছে পরিচিত মুখগুলোকেও প্রচারে সামনে আনছেন ব্রিটিশ মন্ত্রীরা। কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনের সময় বিজ্ঞানী সাইমন ক্লার্ক ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তার ফেসটাইম আলাপ সম্প্রচার করেন। এ সময় তার ৭৩ হাজার অনুসারী এর সঙ্গে যুক্ত হন।

একইভাবে ‘মাদার পুক্কা’ নামে পরিচিত প্রচারক আনা হোয়াইটহাউজ জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসনের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও পোস্ট করেন। আনা হোয়াইটহাউজের অনুসারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৪৪ হাজার।

এসব তথ্য প্রকাশ করেছে জনসংযোগ সংস্থা ট্যানজারিন। সংস্থাটির সহযোগী পরিচালক স্যাম ফিস্ক বলেন, ‘মানুষ এখন প্রথাগত রাজনৈতিক বক্তব্যে আগ্রহ হারাচ্ছে। ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার একটি বাস্তবসম্মত পরিবর্তন। তবে উচ্চমানের কনটেন্ট তৈরি করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’