ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশ নিয়ে সম্প্রতি তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হাসাবিস জানান, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর ঝুঁকিগুলো বুঝতে এবং তা নিয়ন্ত্রণে এখনই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। রসায়নে ২০২৪ সালে নোবেল জয়ী এ বিজ্ঞানী মনে করেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলোকে নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী সুরক্ষাকবচ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

সম্মেলনে হাসাবিস উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি খাত এখন এআই খাতের প্রকৃত ঝুঁকিগুলো মোকাবেলায় একটি ‘স্মার্ট রেগুলেশন’ বা কার্যকর নীতিমালা চাইছে। তিনি প্রধানত দুটি বড় ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। প্রথমটি হলো কোনো ‘অশুভ শক্তি’ বা খারাপ উদ্দেশ্যে এআইয়ের ব্যবহার। দ্বিতীয়টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সিস্টেমগুলো যত বেশি শক্তিশালী হবে, সেগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ ততই হারানোর আশঙ্কা। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য এআইয়ের এ দ্রুতগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন গুগল ডিপমাইন্ড এ বিশাল ইকোসিস্টেমের একটি অংশ মাত্র।

দিল্লির এ সম্মেলনে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের নেতা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নিয়েছেন। ওপেন এআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যানও এআই নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছে। হোয়াইট হাউজের প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাইকেল ক্র্যাটসিওস জানান, এআইয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে হলে একে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখতে হবে।

যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও এ সম্মেলনে অংশ নেন। তিনি জানান, এআই নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। রাজনীতিবিদ ও প্রযুক্তিবিদদের হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে জনস্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। স্যার ডেমিস হাসাবিস মনে করেন, এআই দৌড়ে পশ্চিমা দেশগুলো চীনের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকলেও কয়েক মাসের ব্যবধানে চীন সে দূরত্ব কমিয়ে ফেলতে পারে।

হাসাবিস বলেন, ‘আগামী ১০ বছরে এআই মানুষের সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে এক বিশাল শক্তিতে পরিণত হবে। তাই তরুণ প্রজন্মের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা (স্টেম এডুকেশন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারিগরি জ্ঞান থাকলে এ সিস্টেমগুলো ব্যবহার করা অনেক সহজ হবে।

সম্মেলনের শেষ দিনে অংশগ্রহণকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এআই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় একটি যৌথ ঘোষণা আসার কথা।’ তিনি জানান, প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তারা সব সময় সঠিক না হলেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।