তুরস্কে মূল্যস্ফীতি নভেম্বরে ৬২ শতাংশ বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। যদিও অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৪৩ থেকে ৩ দশমিক ২৮ শতাংশে সামান্য কমেছে। তবে এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। তুর্কি মুদ্রা লিরার অবমূল্যায়নের কারণে মূল্যস্ফীতির উত্থান ঘটেছে। খবর ইউরো নিউজ।
ইনফ্লেশন রিসার্চ গ্রুপের (ইএনএজি) অর্থনীতিবিদরা নভেম্বরের জন্য ভোক্তা মূল্যের বার্ষিক ১২৯ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস করে আরো হতাশাজনক আর্থিক চিত্রের আশঙ্কা করছেন।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান যিনি মে মাসে ক্ষমতায় ফিরেছেন। ওয়াল স্ট্রিটের সাবেক ব্যাংকার হাফিজ গায়ে এরকানের নেতৃত্বে একটি নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক দল নিয়োগ করেছিলেন। এরকানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় মূল সুদের হার ৮ দশমিক ৫ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করেছে। পদক্ষেপটি এরদোগানের পুনঃনির্বাচনের প্রচারাভিযানের দেয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীত। বিশ্লেষকরা ২১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন সভায় চূড়ান্ত সুদহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করছেন। এতে মনে করা হচ্ছে, ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল থাকবে।
উচ্চ সুদহারের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগ কমতে শুরু করেছে। সরকারি তথ্যে এটি স্পষ্ট করেছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তুরস্কের জিডিপি মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য চাহিদা কমানো এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষক লিয়াম পিচ জানান, এ পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাগত জানালেও মূল্যস্ফীতিকে অনেক কমিয়ে আনার জন্য কঠোর মুদ্রানীতির প্রয়োজন হবে।
এসএন্ডপি নভেম্বরে তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদি রেটিং স্থিতিশীল থেকে ইতিবাচকে সংশোধন করেছে, যা মূল্যস্ফীতির উত্থানকে নির্দেশ করছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লেগে যাবে।
কিছু বিশ্লেষক মূল্যস্ফীতির সর্পিল উত্থানের পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রকৃত সুদহার হ্রাস করার জন্য চাপ দিয়েছেন। এরদোগানের নেতৃত্বে প্রাথমিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও তুরস্ক ২০১৯ সালের শেষ থেকে দুই সংখ্যার মূল্যস্ফীতি দেখছে।










