বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভারতের অবদান বাড়ছে। পাঁচ বছরে দেশটির বৈশ্বিক অবদান অন্তত ২ শতাংশ বাড়বে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের মোট অবদানের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ শতাংশ। এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। তার মতে, আগামী বছরগুলোয় ভারতের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে সম্প্রসারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুম্বাইয়ে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কথা বলেন কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে চীন ও ভারতের অবদান ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে চীনের ৩৪ ও ভারতের ১৬ শতাংশ। ভারতের অর্থনৈতিক কার্মকাণ্ড দ্রুতগতিতে বেড়ে চলায় পাঁচ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে দেশটির অবদানের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ১৮ শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং বৈশ্বিক পরিবেশ সত্ত্বেও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল তুলনামূলক ভালো করছে। এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে চলতি বছর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অঞ্চলটি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে দুই-তৃতীয়াংশ অবদান রাখার পথে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থানে। বৈশ্বিক ভোগ কমে গেলেও দেশটিতে অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিপুল বিনিয়োগের কারণে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
আইএমএফের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘খুচরা বাজারে পণ্যের দাম মাঝামাঝি। গ্রীষ্মে টমেটো ও সবজির দাম ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে তা নিম্নমুখী হয়ে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সহনীয় মাত্রায় নেমেছে। সেপ্টেম্বরে মোট মূল্যস্ফীতির মাত্রা ছিল ৫ শতাংশ।’
শ্রীনিবাসন জানান, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ হতে পারে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বাজেটের সমপরিমাণ রাজস্ব আয় হলেও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে এ ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এলপিজিতে ভর্তুকি, মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের (এমএনআরইজিএ) আওতায় উচ্চ ব্যয়ের কারণে বাজেটের প্রত্যাশিত ব্যয়সীমা ছাড়িয়ে যাবে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারগুলোর ঘাটতির পরিমাণ জিএসডিপির (মোট প্রাদেশিক অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) ২ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে তা ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। গত বাজেটে ভালো পারফর্ম করায় ঘাটতির পূর্বাভাস কমেছে।
মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় না নামা পর্যন্ত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোকে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য আর্থিক খাতে ম্যাক্রো প্রুডেনশিয়াল নীতি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে শ্রীনিবাসন বলেন, ‘এত দ্রুত এর প্রভাব সম্পর্কে বলা কঠিন। যদি জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় তাহলে একটা প্রভাব পড়বে। জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ১০ শতাংশ বাড়ায় বৈশ্বিক জিডিপির পরিমাণ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে যায় এবং দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ঘটে। আর এশিয়ার অনেক দেশই জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতি চাপে পড়ে।’










