বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ আকরিক লোহা উৎপাদক দেশ ভারত। কিন্তু আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকের পর কয়েকশ খনির লিজের সময়সীমা পার হয়ে যাবে। ফলে কার্যত এসব খনি থেকে সে সময় উত্তোলন কমে আসবে। এর বিপরীতে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা এ সময় বাড়বে। যে কারণে আগামী বছরে আকরিক লোহার নিট আমদানিকারক (রফতানির তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি) দেশে পরিণত হতে পারে ভারত। বাজারবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোজেন্সির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর মেটাল মাইনার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বরে) ভারতের আকরিক লোহার আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ লাখ টন। আর এ সময়ে দেশটি থেকে ধাতুটি রফতানি হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার টন। যেখানে ২০১৮ সালে সব মিলিয়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ টন। এর বিপরীতে সে সময় দেশটির রফতানি ছিল ১ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার টন। সে সময় দেশটির নিট রফতানি ৩০ লাখ টনের বেশি ছিল।

তবে আগামী বছরে দেশটির আকরিক লোহা উত্তোলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ দেশটিতে বর্তমান উত্তোলন কার্যক্রম অব্যাহত থাকা ২৪টি খনিসহ ৩২৯টি নন-ক্যাপটিভ (যেসব খনি থেকে উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আকরিক লোহা বিক্রি করতে পারবে) খনির লিজের মেয়াদ আগামী মার্চে শেষ হয়ে যাবে। গত বছর মোট উত্তোলনের ৩০ শতাংশ এসব খনি থেকে এসেছিল। উল্লেখ্য, গত বছরে দেশটির আকরিক লোহা উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ২১ কোটি টন।

কোজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মার্চে এসব খনির লিজিং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এপ্রিলে আবার নিলাম হবে। তবে এসব খনিগুলো উত্তোলনে আসতে আরো তিন থেকে চার বছর সময় নিবে। কারণ উত্তোলন কার্যক্রম চালু করতে পরিবেশগত ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে এ সময় লাগতে পারে। এতে এ সময়গুলোয় দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আকরিক লোহার আমদানি বাড়াবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরই মধ্যে ব্যালান্স অব পেমেন্ট নিয়ে হিমশিম খাওয়া ভারতের জন্য নিট আমদানিকারক হওয়া বাড়তি বোঝা তৈরি করবে। কারণ দেশটির ইস্পাত খাতে এ সময়ে অধিক পরিমাণ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে আকরিক লোহার দাম বৃদ্ধি পাবে, যা কার্যত ইস্পাতের দাম বাড়িয়ে দেবে।

উল্লেখ্য, সাধারণত ৬০ শতাংশের বেশি উচ্চমানের আয়রন সংকর বা আয়রন কন্টেন্ট রয়েছে, এমন আকরিক লোহা আমদানি করে ভারত। এর বিপরীতে ৫৮ শতাংশের নিচে নিম্নমানের আয়রন সংকর বা আয়রন কন্টেন্ট থাকে, এমন আকরিক লোহা চীনের বাজারে রফতানি করে দেশটি।