চলতি বছর তামার বৈশ্বিক দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় আরোহণ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ট্রাফিগুরা। একদিকে চাহিদা বৃদ্ধি অন্যদিকে মজুদ কমতে থাকায় এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধাতব পণ্যের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি।

জিরো কভিড নীতি থেকে সরে আসায় চীনে আবারো বাড়তে শুরু করেছে তামার চাহিদা। তবে চাহিদা বাড়লেও ধাতুটির সরবরাহ কিংবা উৎপাদন ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য যথার্থ নয়। তামার বৈশ্বিক মজুদ এমনিতেই নিম্নমুখী। চীনে চাহিদা বাড়তে শুরু করায় তা তলানিতে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৈদ্যুতিক তার থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি- প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নানা খাতে অপরিহার্য ধাতু তামা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ধাতুটির বৈশ্বিক মজুদ খুব দ্রুত কমে ১৫ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে চীনে দ্রুতগতিতে চাহিদা বাড়লে ধাতুটির বাজারে ঝুঁকি আরো প্রকট হবে।

সবশেষ গত শুক্রবার লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছে তামার দর। মজুদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের দুর্বল বিনিময় মূল্য দাম বাড়াতে সহায়তা করেছে। বাজার আদর্শ তামার দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৯ হাজার ৯৩ ডলারে। দিনের শুরুতে ধাতুটির দাম টনপ্রতি ৯ হাজার ১৪১ ডলার ৫০ সেন্টে উঠেছিল, যা ২৩ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

জানুয়ারিতে তামার দাম টনপ্রতি ৯ হাজার ৫৫০ ডলার ৫০ সেন্টে উঠেছিল। ওই সময় চীন নিজেদের সীমান্ত থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ায় তামার চাহিদায় পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখা দেয়। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী চাহিদা না বাড়ায় আবারো ধাতুটির দাম কমে যায়।

ট্রাফিগুরার মেটাল ও মিনারেলস বিভাগের সহপ্রধান কোস্তাস বিন্তাস বলেন, ‘‌গত বছরের মার্চে তামার দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলে। ওই সময় প্রতি টনের সর্বোচ্চ দাম ওঠে ১০ হাজার ৮৪৫ ডলার পর্যন্ত। এ বছর সে রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়াতে পারে ১২ হাজার ডলারে।’

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এফটি কমোডিটি গ্লোবাল সামিটে তিনি বলেন, ‘‌আমি মনে করছি, ১২ মাসের মধ্যেই তামার দাম নতুন উচ্চতায় আরোহণ করবে।’

গোল্ডম্যান স্যাকস জানায়, চীনে ফেব্রুয়ারিতে তামার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। একই গতিতে যদি আগামী মাসগুলোতেও চাহিদা বাড়ে, তবে বাজার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিক নাগাদ তামার বৈশ্বিক মজুদ তলানিতে নামার আশঙ্কা রয়েছে।

বিনিয়োগ ব্যাংকটির দেয়া তথ্যমতে, চীনে গত মাসে তামার চাহিদা এক বছরের ব্যবধানে ১৩ শতাংশ বাড়ে। চান্দ্রবর্ষের ছুটি শেষে শিল্পোৎপাদন বেড়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েক মাসের মধ্যেই তামার দাম টনপ্রতি ১০ হাজার ৫০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়াবে। ২০২৫ সালের মধ্যে দাম ১৫ হাজার ডলারে ‍উন্নীত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমান বিশ্ব এখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যুগে প্রবেশ করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোয় নতুন নতুন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে তামার চাহিদা বাড়ছে লক্ষণীয় মাত্রায়। কিন্তু চাহিদার অনুপাতে বাজারে নতুন সরবরাহ আসছে না।