কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলো দিয়ে গত সপ্তাহেও গম রফতানি স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে রাশিয়া। তবে আজভ সাগরের বন্দরগুলোয় রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্লেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে রফতানি অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় বাজারে খাদ্যশস্যটির দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় রাশিয়ান মুদ্রা রুবলের বিনিময় মূল্য লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে।

রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর এটিকে বিশেষ সামরিক অভিযান বলে আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো এ আক্রমণকে রাশিয়ার আগ্রাসন নীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেশগুলো রাশিয়ার ওপর কয়েক ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ কারণে চার সপ্তাহ ধরে বৈদেশিক ব্যাংক ও রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোয় বাণিজ্যিক রসদ সরবরাহ এবং লেনদেন করা জটিল হয়ে পড়েছে।

ইকার এগ্রিকালচার কনসালট্যান্সির প্রধান দিমিত্রি রিলকো বলেন, বর্তমানে নতুন ও পুরনো চুক্তির সমন্বয়ে রফতানি প্রবাহ অব্যাহত আছে। ইকার ও অন্য একটি কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান সভেকন জানায়, ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলোয় প্রতি টন ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ গম প্রায় ৩৯০ ডলার মূল্যে রফতানি হচ্ছে।

সভেকন বলছে, বর্তমানে ক্রেতারা এফওবি চুক্তিতে পণ্য ক্রয় করতে চাচ্ছেন না। তারা যথাসম্ভব সরবরাহজনিত ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন। ফলে বিক্রেতারা সরাসরি দাম ও চালানের ভিত্তিতে রাশিয়ান গম বিক্রি করছেন। রাশিয়া গত সপ্তাহে চার লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করেছে। তার আগের সপ্তাহে রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২০ হাজার টন।

স্থানীয় বাজারে রুবলে পরিশোধযোগ্য গমের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে বলে জানায় সভেকন। মূলত ডলারের বিপরীতে রুবলের বিনিময় মূল্য কমে যাওয়াকেই এর পেছনে দায়ী করছে প্রতিষ্ঠানটি।

তথ্য বলছে, অনুকূল আবহাওয়ায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এরই মধ্যে বসন্তকালীন শস্য আবাদ শুরু হয়েছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত অঞ্চলটির ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে খাদ্যশস্য আবাদ করা হয়। অথচ গত বছরের একই সময় আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে।

রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য বিশেষ করে গম রফতানিকারক দেশ। কৃষ্ণ সাগর দিয়ে দেশটির গম রফতানি স্থিতিশীল থাকলেও যুদ্ধের প্রভাবে তা বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং কমার আশঙ্কা রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে।

২০২১-২২ মৌসুমের জন্য খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক রফতানি পূর্বাভাস কমিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)। সংস্থাটি জানায়, মৌসুম শেষে রফতানি দাঁড়াবে ৪১ কোটি ৫০ লাখ টনে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ৯০ লাখ টন খাদ্যশস্যের রফতানি কমবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের দেশ দুটির মধ্যে সংঘাত শুরুর পর খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিপর্যয় নেমেছে। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও। এ কারণে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে গম ও ভুট্টার রফতানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এটি ব্যাপক প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক রফতানিতে।

এক প্রতিবেদনে আইজিসি জানায়, বর্তমানে ইউক্রেন কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়ার টার্মিনালগুলো তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় দেশটির রফতানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।