চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) চীনের কয়লা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির শুল্ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বছরের এ সময় এটিই ছিল এ-যাবৎকালের সর্বোচ্চ আমদানি। জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, দেশটি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ৭ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৬ লাখ ৩০ হাজার টন।

তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে চীন রেকর্ড সর্বোচ্চ পরিমাণ কয়লা আমদানি করে। তবে চলতি বছর আমদানি ওই পর্যায় থেকে অনেকটাই কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। দেশটি ৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা আমদানি করে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে চীন সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৭৩ লাখ টন কয়লা আমদানি করে। তীব্র ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় দেশটিতে কয়লার চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দেয়। এ চাহিদায় সাড়া দিতেই স্থানীয় উত্তোলনের পাশাপাশি আমদানি বাড়ানো হয়।

তবে চলতি বছর চীনে কয়লার ব্যবহার নিম্নমুখী থাকবে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। কারণ এ সময় সেখানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বর্তমান বিশ্ব। জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও কয়লার ব্যবহার বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ফলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এশিয়ার দেশগুলো এখনো জ্বালানি হিসেবে কয়লার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এটির ব্যবহার রোধে এ অঞ্চলের দেশগুলোয় নীতিগত চাপও কম। ব্যাপক মজুদের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশই পূরণ করে কয়লা। ফলে এখানে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন ও রফতানি দুটোই বাড়ছে সমানতালে।

বিশ্লেষকরা জানান, অন্যান্য অঞ্চলে কমলেও এশিয়ার দেশগুলোয় কয়লার ব্যবহার ও আমদানি আরো বাড়বে। বিশেষ করে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলো লম্বা সময় ধরে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জ্বালানিটি ব্যবহার করবে।