পুঁজিবাজারে তালিতকাভুক্ত জুট স্পিনার্স লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেন সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ বৃদ্ধির পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিঠির জবাবে জানিয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ২৩ নভেম্বরের পর থেকে ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে জুট স্পিনার্সের শেয়ারদর। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৯১ টাকা ৭০ পয়সা। এখান থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৯ টাকা ২০ পয়সা। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা বা ২৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তবে বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ টাকা ২০ পয়সা কমে ২৪২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর এদিন সর্বশেষ ২৪০ টাকায় শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গত ৩০ নভেম্বর সবচেয়ে বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির। এদিন মোট ৩৬ হাজার ১১৮টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার এ লেনদেন ছিল ১৩ হাজার ৯০৯টি।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জুট স্পিনার্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান ১২ টাকা ৪৫ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১০ টাকা ৮৩ পয়সা। এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৪৫০ টাকা ৮৭ পয়সায়। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে এ দায় ৪০৪ টাকা ৪১ পয়সায়।

লোকসানের কারণে সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি জুট স্পিনার্স। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৪ টাকা ৮৪ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ লোকসান ছিল ৪৪ টাকা ৫৯ পয়সা। এ বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়ায় ৪৩৮ টাকা ৪২ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩৯৩ টাকা ৫৭ পয়সায়।

লোকসানের কারণে ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি জুট স্পিনার্স। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৪ টাকা ৫৯ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪৫ টাকা ৪৩ পয়সা।

১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জুট স্পিনার্সের অনুমোদিত মূলধন ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৭ লাখ। এর ৩৯ দশমিক ৮২ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও বাকি ৩৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১১০ টাকা থেকে ২৮৯ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।