চলতি বছরের ৯-১০ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে জি২০ সম্মেলন। তার আগে সম্প্রতি জয়পুরে শেষ হয়ে গেল সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রীদের সভা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় সহযোগিতা দেয়া, তথ্যের ডিজিটালাইজেশন ও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন অক্ষুণ্ন রাখা নিয়ে একমত হয়েছেন সদস্যরা। ইউক্রেন ইস্যুতে বিভাজন থাকলেও অধিবেশনকে সফল হিসেবে দাবি করেছেন সভাপতির দায়িত্বে থাকা ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। খবর নিক্কেই এশিয়া।
সভায় ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভ্লাদিমির পুতিন জি২০ সম্মেলনে যোগ দিতে পারবেন না। তবে সভায় স্বাভাবিকভাবে যুদ্ধ ছিল আলোচনার টেবিলে। সভাপতির বিবৃতিতে বলা হয়, অধিকাংশ সদস্যই ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে নিন্দা জানিয়েছে। মানুষ যুদ্ধের কারণে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রবৃদ্ধির সংকোচন, মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার মাধ্যমে। তৈরি হয়েছে জ্বালানি ও খাদ্যের অনিরাপত্তা। বাড়ছে অর্থনৈতিক খাতে ঝুঁকি।
বাণিজ্যমন্ত্রীদের সভায় ছোট ব্যবসাগুলোকে সহযোগিতা দেয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন অক্ষুণ্ন রাখার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতি ও অবরোধের বিষয়েই নানা মত রয়েছে। জি২০ সম্মেলনে রাশিয়া ভূরাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা তুলতে নারাজ। একইভাবে চীনও আপত্তি জানিয়েছে ভূরাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা তুলতে। তারা বিশ্বাস করে জি২০ একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রীদের সম্মেলনে রাজনৈতিক বিষয় আলোচনা সমীচীন নয়। জি২০ ফোরাম নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হাজির করার জায়গা নয়। যদিও নিরাপত্তা বিষয়াবলির সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ফল রয়েছে।’
পীযূষ গয়ালের দৃষ্টিতে জয়পুর সভা ছিল অনেকাংশেই সফল। সভার সারাংশ অনুমোদন পেয়েছে সব সদস্যদের দ্বারাই। বিভিন্ন নীতিমালার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যের নথিপত্রগুলোকে ডিজিটালাইজড করে ফেলা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসাগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়া। সভায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জোর দিয়েছেন স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন তৈরির প্রতি। তিনি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যা বাণিজ্যের কাঠামোকে বদলে দিতে পারে। পীযূষ গয়াল বলেন, ‘চলমান বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতাগুলোর মধ্যে মহামারী ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও জড়িত, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
সভায় বাণিজ্যিক নথিপত্রের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে সম্মত হয় সদস্যরা। দাবি করা হয়, এর মাধ্যমে দুটি দেশের মধ্যবর্তী বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। নরেন্দ্র মোদির দাবি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোই বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের ৬০-৭০ শতাংশের জোগান দেয়। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে এর হিস্যা ৫০ শতাংশের মতো। তবে এক্ষেত্রে তথ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তথ্যের অবাধ প্রবাহ না থাকলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর এগিয়ে যাওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে উঠতে পারে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিয়মতান্ত্রিক, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষীক বাণিজ্য পদ্ধতিতে বিশ্বাস করে ভারত।’
ভারত পূর্ববর্তী কিছু নীতিমালায় সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপের কারণে সমালোচিত হয়েছে। সর্বশেষ চাল রফতানি ছিল তার মধ্যে একটি। কিন্তু মোদি দাবি করেছেন, নয়াদিল্লি চীন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়ার বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ১২তম ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে তিনি কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছে নরেন্দ্র মোদির শাসনামলেই। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসতে বদ্ধপরিকর দেশটি। নরেন্দ্র মোদি ভারতকে স্বাধীন, অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। সমাপনী ভাষণে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব যে আমরা একটা পরিবারের মতোই আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসকে পুনরুদ্ধার করব।’










