দেশী পেঁয়াজ সরবরাহ বাড়ায় দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা। সামনে সরবরাহ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তখন দামও নিম্নমুখী হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
হিলি বাজারে গতকাল সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের সব দোকানেই দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। দামও নিম্নমুখী। দুদিন আগে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৮৫-৯০ টাকার ঘরে নেমে এসেছে।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা হায়দার আলী বলেন, ‘১৫ ডিসেম্বর ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ামাত্রই দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। সব দোকানে পেঁয়াজ থাকলেও তারা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে চলছিলেন। এতে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পেঁয়াজ খাওয়া কমাতে বাধ্য হতে হয়েছিল। যেখানে আগে এক কেজি কিনতাম, সেখানে ২০৫ গ্রাম পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছিল। এখন দাম কমতে শুরু করায় ভালো লাগছে। দাম যেন আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় আসে সে দাবি জানাই।’
অন্য ক্রেতা রোকসানা খাতুন বলেন, ‘যেভাবে রাতারাতি পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল, সে অনুযায়ী আয় না বাড়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন দাম কমায় খুশি। সামনে আরো কমে এলে সংসারের চাপ একটু কমবে।’
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে এখন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। এখন দেশীয় পেঁয়াজ দিয়েই ক্রেতাদের চাহিদা মেটাচ্ছি। বর্তমানে পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেত থেকে কৃষক পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় মোকামগুলোয় দেশীয় পেঁয়াজ সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এক মণ পেঁয়াজ দুদিন আগে পাবনার মোকামগুলোয় ৩ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছিল, সরবরাহ বাড়ায় একই পেঁয়াজ এখন ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুদিনের ব্যবধানে মোকামেই মণপ্রতি ৪০০ টাকার মতো কমেছে। মোকামে দাম কমায় আমরাও কম দামে কিনে এনে কম দামেই বিক্রি করতে পারছি। সামনে দাম আরো কমবে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে জেলার বিভিন্ন হাট ও বাজারে অভিযান চালানো হচ্ছে। কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমান হলে আর্থিক জরিমানাসহ শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।’









