অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানিকারক দেশ। কিন্তু দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখা দেয়ায় রফতানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, সংকট নিরসনে এলএনজি রফতানি কমানো হতে পারে।
বিশ্লেষকরা জানান, চলমান গ্যাস সংকট বেড়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আগামী বছর জ্বালানিটির দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে আরোহণ করতে পারে। খবর অয়েলপ্রাইস ডটকম।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশন বলছে, অতিমাত্রায় রফতানির কারণেই আবারো গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে অবশ্যই রফতানি সীমিত করতে হবে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাপ্লাই গ্যারান্টি ম্যাকানিজম চালুর সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই প্রতিক্রিয়া জানায় অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশন। কয়েক বছর আগে গ্যাসের একই রকম সংকট দেখা দিলে অস্ট্রেলিয়ান সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ম্যাকানিজম গ্রহণ করেছিল। এর উদ্দেশ্য ঊর্ধ্বমুখী রফতানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
ম্যাকানিজম অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ান সরকার চাইলে রফতানির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত এলএনজি কার্গো দেশটির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত অফশোর প্রকল্পগুলোয় স্থানান্তরিত করতে পারবে।
খনিজসম্পদমন্ত্রী ম্যাডেলিন কিং বলেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদের নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একটি উৎস অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি আমাদের দেশ উত্তর এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি সরবরাহকারী। আমরা এখনো বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়তা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে আমরা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি।
অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশন জানায়, যদি এলএনজি উৎপাদকদের চুক্তির বাইরে তাদের সব এলএনজি রফতানির অনুমতি দেয়া হয়, তবে দেশে দেশে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হবে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে ঘাটতি চাহিদার অনুপাতে দশ গুণ বাড়বে।










