ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে ক্যারিয়ার ফেস্টিভ্যাল-২০২৫ আয়োজন করেছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
ফেস্টিভ্যালে দেশী ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে মোট ১৩০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বুথে সিভি জমা দেয় ও তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ পায়।
প্রতি বছরের মতো এবারো আইইউবিএটি শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে প্রবেশ সহজ করতে এবং করপোরেট বিশ্বের সঙ্গে একাডেমিয়ার স্থায়ী সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেই এ বৃহৎ কর্মসংস্থান উৎসবের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস অফিস এ আয়োজন করেছে। এবারের আয়োজন অংশগ্রহণ, পরিসর, নিয়োগসংখ্যা ও করপোরেট সম্পৃক্ততার দিক থেকে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
‘আইইউবিএটি ক্যারিয়ার ফেস্টিভ্যাল ২০২৫’ এ দেশের প্রথম সারির করপোরেট গ্রুপ, ব্যাংকিং খাত, টেলিকম, ই-কমার্স, আইটি, হেলথকেয়ার, ম্যানুফ্যাকচারিং, হসপিটালিটি, এনজিও, এগ্রিবিজনেসসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ১৩০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। শুধু দেশী প্রতিষ্ঠানই নয়, এবারের উৎসবে আন্তর্জাতিক কোম্পানি, মাল্টিন্যাশনাল ফার্মসহ বিভিন্ন বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানও উপস্থিত ছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বুথে ভিড় জমায় হাজারো শিক্ষার্থী, গ্রাজুয়েট এবং তরুণ চাকরিপ্রত্যাশীরা।
এ বছর এসব প্রতিষ্ঠান মোট ১,২০০ এরও বেশি শূন্যপদ নিয়ে উৎসবে হাজির হয়। দিনব্যাপী তারা অনস্পট সিভি সংগ্রহ, প্রাথমিক স্ক্রিনিং, লিখিত পরীক্ষা, গ্রুপ ডিসকাশন এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে।
ক্যারিয়ার ফেস্টিভ্যালের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের নিয়োগদাতাদের সরাসরি কাছে পৌঁছে দেয়া, যাতে তারা চাকরি বাজারের বাস্তব চাহিদা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, পদের দায়িত্ব, ক্যারিয়ার পথচলা, বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা পায়। অনেক শিক্ষার্থী দিনেই প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়, আবার অনেকের জন্য পরবর্তী নিয়োগধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে আইটি, ব্যাংকিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডাটা অ্যানালিটিক্স, হসপিটালিটি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
দিনব্যাপী উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ১০টি ক্যারিয়ার সেশন, যেখানে দেশের অভিজ্ঞ মানবসম্পদ পেশাজীবীরা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। এতে অংশগ্রহণ করে শত শত শিক্ষার্থী। প্রতিটি সেশনে ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে দক্ষতার চাহিদা, ইন্টার্নশিপের গুরুত্ব, সিভি ও কাভার লেটার প্রস্তুতি, ইন্টারভিউতে আত্মবিশ্বাস, করপোরেট আচরণ, ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
দিনের শেষে একটি বিশেষ প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের শীর্ষ করপোরেট নেতা, সফল উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন মানবসম্পদ পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থান পরিস্থিতি, করপোরেট সেক্টরের বর্তমান চাহিদা, স্নাতকদের দক্ষতার ঘাটতি ও সমাধানের পথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্কৃতির মতো মৌলিক গুণাবলি উঠে আসে।
এ সময় প্যানেলিস্টরা জানান, একাডেমিক ডিগ্রি সফলতার জন্য প্রয়োজন। তবে দক্ষতা, মনোভাব ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন।
ক্যারিয়ার ফেস্টিভ্যালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল অনস্পট ইন্টারভিউ। সকাল থেকেই একাধিক কোম্পানি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসেই করপোরেট ইন্টারভিউয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক দল ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তা করে। এ ফেস্টিভ্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও করপোরেট সহযোগিতাকে আরো শক্তিশালী করে।
—বিজ্ঞপ্তি










