চট্টগ্রামকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নগরায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেছে আবাসন প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল।কানেক্টিং দ্য ফিউচার অব চট্টগ্রাম’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভায় নগরীর বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা। সম্প্রতি সিপিডিএলের গ্যালেরিয়া অ্যামবিয়েন্স হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামের শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী, নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সিপিডিএল ফ্যামিলির প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন বলেন, একটি গ্লোবাল সিটি শুধু উন্নত অবকাঠামোর মাধ্যমে গড়ে ওঠে না; এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের সেবা, আধুনিক জীবনযাপনের সুযোগ, আকর্ষণীয় গন্তব্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং মানুষের জন্য উন্নত নগর অভিজ্ঞতা। সিপিডিএলের বিভিন্ন উদ্যোগ চট্টগ্রামের বর্তমান সম্ভাবনাকে ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করার সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ।

চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে আরো বিকশিত করে একটি আধুনিক ও গ্লোবাল সিটিতে রূপান্তরের এই যাত্রায় সিপিডিএলের অ্যামেজিং চট্টগ্রাম ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সিপিডিএলের চিফ স্ট্যাটেজিক অফিসার জিয়াউল হক সিপিডিএলের প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নগরজীবনের মানোন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সিপিডিএল। সিপিডিএলের ‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’ ভাবনার মূল লক্ষ্য হলো- চট্টগ্রামের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গ্লোবাল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পথে অবদান রাখা। এই বৃহত্তর ভাবনার অংশ হিসেবে সিপিডিএলের অন্যতম উদ্যোগ মল অব চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের প্রথম ডেস্টিনেশন মল হিসেবে পরিকল্পিত এ প্রকল্পটি শুধু কেনাকাটার স্থান নয়; বরং শপিং, ডাইনিং, বিনোদন, অবসর ও পারিবারিক সময় কাটানোর সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রা ও নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় রেখে মল অব চট্টগ্রাম নগরীর বাণিজ্যিক ও লাইফস্টাইল পরিসরে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করে যাচ্ছে গ্যালেরিয়া - ইউর সেকেন্ড হোম। ফয়’স লেক রোডে গড়ে ওঠা এই প্রিমিয়াম হসপিটালিটি ডেস্টিনেশন আধুনিক আতিথেয়তা ও জীবনযাপনের নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আবাসন, রেস্টুরেন্ট, সুইমিং পুল, জিম, ব্যাংকুয়েট হলসহ বিভিন্ন সুবিধার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা গ্যালেরিয়া চট্টগ্রামের হসপিটালিটি খাতে নতুন অভিজ্ঞতা ও মানদণ্ড তৈরিতে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছে।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী উদ্যোগ ও ল্যান্ডমার্ক প্রকল্প। এসব উদ্যোগ শুধু নগরের অবকাঠামোকে সমৃদ্ধ করবে না; মানুষের জীবনযাপন, অভিজ্ঞতা এবং চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিচিতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সিপিডিএল চট্টগ্রামে যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, আমি আশা করি তারা সফল হবে। তবে চট্টগ্রাম সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে আছে। চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়ন হয়েছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে। চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে সবার সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা দরকার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, স্থপতি আশিক ইমরান ও বারকোড গ্রুপের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।