দেশীয় বাজারে চাহিদা না থাকায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে শুকনো হলুদ আমদানি কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রায় ২০ শতাংশ পরিমাণ আমদানি কমেছে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ জানায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাসে এ বন্দর দিয়ে শুকনো হলুদ আমদানি হয়েছে ১৮ হাজার ৯৮৬ টন। এতে ব্যয় হয়েছে ১৮৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময় এ বন্দর দিয়ে শুকনো হলুদ আমদানি হয়েছিল ২৮ হাজার ২৪৮ টন। আমদানীকৃত হলুদের মূল্য ছিল ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এতে গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় আমদানি কমেছে নয় হাজার টন।

ভোমরা বন্দরের অন্যতম মসলাজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে শুকনো হলুদের আমদানি কমেছে। তিনি বলেন, গত অর্থবছরের জুলাইয়ে প্রায় ২৩০ থেকে ২৪০ ট্রাক হলুদ আমদানি করে তার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১৪০ থেকে ১৫০ ট্রাক শুকনো হলুদ আমদানি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের মসলাজাত পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাহা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সমরেশ সাহা জানান, আমদানীকৃত হলুদের চাহিদা সম্প্রতি কমে গিয়েছে। তিনি বলেন, দেশীয় হলুদের সরবরাহ বেড়ে যাওয়াতে আমদানীকৃত হলুদের চাহিদা কমেছে। এতে করে এ মসলাজাত পণ্যটির দামও কমেছে বলে জানান। তিনি বলেন, এক মাস আগেও যে গুঁড়া হলুদ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা এখন ২৬৫ থেকে ২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, জেলায় হলুদ উৎপাদন বেড়েছে। চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার টন কাঁচা হলুদ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় তিন হাজার টন বেশি। গত মৌসুমে হলুদ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার টন। এ পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে জেলায় ৭৮০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে বলে জানায় সূত্রটি।

সাতক্ষীরার দাঁতপুর গ্রামের হলুদ চাষী লিয়াকত গাজী জানান, চলতি মৌসুমে তিন বিঘা পরিমাণ জমিতে হলুদ চাষ করেছেন। গত মৌসুমে একই পরিমাণ জমিতে হলুদ চাষ করে সাড়ে ছয় টন হলুদ উৎপাদন হয়েছিল। এতে তার উৎপাদন খরচ বাদে প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, হলুদ চাষে খরচ কম হলেও সময় লাগে বেশি।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আমীর মামুন জানান, মসলাজাত পণ্য হিসেবে শুকনো হলুদেও সরকারের রাজস্ব আসে উল্লেখযোগ্য। তবে গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছর প্রথম মাসে এ পণ্য আমদানি কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি।