সদ্য শেষ হওয়া বছরে কম্বোডিয়ার চাল রফতানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। গত বছর দেশটি থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার ১০৬ টন চাল রফতানি হয়েছে। যেখানে এর আগের বছর দেশটির রফতানির পরিমাণ ৬ লাখ ২৬ হাজার ২২৫ টন ছিল। কম্বোডিয়ান রাইস ফেডারেশনের (সিআরএফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর নমপেন পোস্ট।

সিআরএফের তথ্যমতে, গত বছর কম্বোডিয়ার চাল রফতানি কমে যাওয়ায় এ খাত থেকে দেশটির আয়ও কমেছে। ২০১৮ সালে চাল রফতানি থেকে দেশটির আয় ছিল ৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর গত বছর দেশটি এ খাত থেকে আয় করেছে ৫০ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চাল রফতানিতে থেকে দেশটির আয় কমেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এ নিয়ে টানা দুই বছরের মতো চাল রফতানি থেকে দেশটির আয় কমেছে।

তবে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ২০১৯ সালে চীনের বাজারে চাল রফতানি বেড়েছে কম্বোডিয়ার। গত বছর দেশটির বাজারে কম্বোডিয়ার চাল রফতানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৯৯০ টন, যা দেশটির মোট রফতানির ৪০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এছাড়া আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোয় ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বা ৮৩ হাজার ১৬৪ টন এবং অন্য বাজারগুলোয় ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বা ৮৫ হাজার ৮৪৭ টন চাল রফতানি করে দেশটি।

এদিকে গত জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর পর থেকে এ অঞ্চলে ধীরে ধীরে কম্বোডিয়ার চাল রফতানি কমতে থাকে। তবে চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে দেশটির চাল রফতানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সিআরএফের মহাসচিব লুন ইয়েং।

চলতি বছর কম্বোডিয়ার চাল রফতানির সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে সিআরএফ মহাসচিব বলেন, চীনের বাজারে এ বছর চার লাখ টন রফতানি কোটা, ইইউতে চাল রফতানিতে টনপ্রতি শুল্ক ১৭৫ ইউরো থেকে কমে ১৫৫ ইউরোতে স্থির হওয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রুনাইয়ের বাজারে রফতানি বৃদ্ধি পাওয়াসহ নতুন নতুন বাজারে এ বছর কম্বোডিয়ার চাল রফতানি হতে পারে, যা দেশটির মোট চাল রফতানি বাড়িয়ে দেবে। সব মিলিয়ে এ বছর চাল রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি হওয়ার পাশাপাশি এ খাত থেকে আয় বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সিআরএফ মহাসচিব দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ইইউর বাজারে কম্বোডিয়ার চালের চাহিদা বাড়াতে মূল্য কমিয়ে দেয় সরকার। ফলে গত বছর এ অঞ্চলে দেশটির সুগন্ধি চালের রফতানি ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।