বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো। বিনিয়োগ করা হচ্ছে বিপুল অর্থ ও তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। নতুন প্রজন্মের দ্রুত পরিবহনের কথা মাথায় রেখে বাজারে এসেছে নতুন মডেলের গাড়ি। ফলে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ইভির বিক্রয়। পরিবর্তন এসেছে গাড়ির গতিসীমা ও মডেলে। যদিও উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় বিস্তার তুলনামূলকভাবে ধীর। তবু ক্রমেই স্ফীত হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ইভির বাজার। সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছে দি ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
সম্প্রতি এ বিষয়ে জরিপ প্রকাশ করেছে গোল্ডম্যান স্যাকস। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিক বাজারে বিক্রীত গাড়ির অর্ধেকই থাকবে ইভি। ২০৪০ সাল নাগাদ ৭ কোটি ৩ লাখ ইউনিট বিক্রি হবে। বর্তমানে সংখ্যাটা মাত্র ২০ লাখ। ২০২৩ সালে এ খাতের বাজার মূল্য ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়নকে অতিক্রম করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ ২০২২ সালে এটি ২০ হাজার ৯০০ কোটিতে অবস্থান করছে। এবার একনজরে প্রধান কোম্পানিগুলোর অবস্থা দেখা যাক।
জেনারেল মোটরস: সবার জন্য ইভি
‘সবার জন্য ইভি’ শ্লোগান নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরস। ইভিসংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। অংকের পরিমাণ তাদের গ্যাস ও ডিজেলে বিনিয়োগের চেয়েও বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তবতা। আমরা সমাধানের অংশ হতে চাই বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহের মাধ্যমে। এমনটাই দাবি করেছেন জেনারেল মোটরসের প্রধান নির্বাহী মেরি বারা। কোম্পানিটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ইভি দ্য শেভরলেট বোল্টের দাম শুরু হয়েছে ২৬ হাজার ৫০০ ডলার থেকে। এদিকে হামার এডিশন-১-এর দাম ১ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার।
ফক্সওয়াগন: নতুন আলোড়ন
ইউরোপের সর্ববৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সওয়াগন। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ১৫ লাখ ইভি তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন-দূষণমুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। জার্মান প্রতিষ্ঠানটি ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এ খাতে। উত্তর আমেরিকার টেনাসিতে স্থাপন করেছে ইভি টেস্ট সেন্টার। ফক্সওয়াগনের সবচেয়ে পরিচিত ইভি আইডিডটফোর ইভি। যার মূল্য শুরু হয়েছে ৩৮ হাজার ৯৯৫ থেকে। ২০২৪ সালে আসছে আইডিডটবাজ। গাড়িটির দাম শুরু হবে ৬০ হাজার ডলার থেকে।
স্টেলান্টিস: ইউরোপে শতভাগ ইভি বিক্রির প্রতিশ্রুতি
২০২১ সালে ফিয়াট ক্রাইসলার অটোমোবাইলস ও ফ্রেঞ্চ পিএসএ গ্রুপ একত্রিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করে স্টেলান্টিস কোম্পানি নামে। সাধ্যের মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইভি প্রযুক্তিতে ঝুঁকেছে প্রতিষ্ঠানটি। এক দশকের মধ্যে ইউরোপে শতভাগ ও আমেরিকায় ৫০ শতাংশ ইভি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ইভির নাম পুজো ই-২০৮ অ্যালিউর। গাড়িটির দাম শুরু হয়েছে ৪৪ হাজার ডলার থেকে। অন্যদিকে নতুন ফিয়াট-৫০০ এর দাম শুরু হয়েছে ৩৪ হাজার ডলার থেকে।
ফোর্ড: প্রস্তুত নতুনভাবে
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ি কোম্পানি ফোর্ড। ২০২৫ সাল নাগাদ ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইভি নির্মাণের প্রকল্প হিসেবে। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান রিভিয়ানের সঙ্গে হয়েছে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের চুক্তি। তিন বছরের মধ্যে মিশিগানকে বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তার জন্য তিন হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং ১৪৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ফোর্ডের মাস্টাং ম্যাক-ইর দাম শুরু ৪৬ হাজার ডলার থেকে। অন্যদিকে এফ-১৫০ লাইটনিংয়ের দাম শুরু ৫৬ হাজার ডলার থেকে।
টয়োটা: হার না মানার লড়াই
টয়োটা বিশ্বের সর্ববৃহৎ গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। যদিও দ্রুততার জন্য মাঝে কিছুটা সমালোচিত হয়েছে কোম্পানি। সম্প্রতি জাপানিজ কোম্পানিটি বছরে ৩৫ লাখ ইভি বিক্রির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিক্রির তালিকায় থাকবে টয়োটা ও লেক্সাস ব্র্যান্ডের ৩০ মডেলের গাড়ি। নতুন কিছু মডেলও বাজারে আনার চিন্তা রয়েছে এর মধ্যে। ২০২২-৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছেন কোম্পানির প্রেসিডেন্ট আকিও তয়োদা। টয়োটার সবচেয়ে পরিচিত গাড়ি বিজেডফোরএক্স এসইউভি গাড়িটির দাম শুরু ৪২ হাজার ডলার থেকে।
টেসলা: এখনো শীর্ষে
টেসলা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইভি নির্মাণকারী কোম্পানি। ২০২২ সালে ১৩ লাখ ১০ হাজার ইভি বিক্রির রেকর্ড করেছে। এক বছরে বিক্রি বেড়েছে ৪০ শতাংশ। এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত মাসে দামও কমিয়ে আনা হয়েছে বিক্রি বৃদ্ধি ও ক্রেতার চাহিদা বিবেচনা করে। যদিও বাড়ানো হয়েছে মডেল ওয়াইয়ের দাম। মডেল থ্রি হলো টেসলার সবচেয়ে সাশ্রয়ী ইভি। যার দাম শুরু হয়েছে ৪৩ হাজার ডলার থেকে।










