কভিড-১৯ মহামারী ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সানোফি, জিএসকে ও মার্কের মতো প্রতিষ্ঠিত ভ্যাকসিন কোম্পানিগুলো ফাইজার, মডার্না এবং বায়োএনটেকের মতো নতুন কোম্পানিকে পথ করে দিয়েছে। মহামারীর সংকটের সময় দ্রুত ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বিতরণ করেছিল প্রতিষ্ঠানগুলো। মহামারী শেষ হওয়ার পর ভ্যাকসিন বিক্রি কমেছে। বড় কোম্পানি ভ্যাকসিনের হালনাগাদ সংস্করণ তৈরি করছে, অন্যদিকে কিছু ছোট কোম্পানি বন্ধ করে দিয়েছে ভ্যাকসিন তৈরি। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

বর্তমানে বায়োএনটেক ও ফাইজারের আয় কমেছে। জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন বিক্রিতেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। মডার্না ভ্যাকসিনের চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশা অপেক্ষমাণ, অন্যদিকে সিনোভ্যাক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সেবায় সহযোগিতা করছে।

জার্মান বায়োটেক কোম্পানি বায়োএনটেক ২০২৩ সালে ওষুধ তৈরির বাজেট কমিয়েছে। কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ৯৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনের চাহিদা কমায় কোম্পানিটি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৯ কোটি ৪ লাখ পাউন্ড নিট ক্ষতির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফাইজারের মুনাফা কমেছে ৭৭ শতাংশ। নতুন কভিড-১৯ অ্যান্টি-ভাইরাল পিল প্যাক্সলোভিডের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরি করা জনসন অ্যান্ড জনসনের ফার্মাসিউটিক্যালের ব্যবসা চলতি বছর এপ্রিল-জুন পর্যন্ত কোম্পানির মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি ছিল। ভ্যাকসিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের আয় কমে গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির কারণে কিছুটা আয় করতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক মডার্না চলতি বছর দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের বিক্রি ৯০ শতাংশের বেশি কমেছে।

বায়োটেক কোম্পানি নোভাভ্যাক্স গত প্রান্তিকে ৫ কোটি ৮০ লাখ নিট আয়ের কথা জানিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ইতিবাচক পরিবর্তন। নোভাভ্যাক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন কভিড-১৯ ভ্যাকসিন চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এফডিএ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গত মাসে নোভাভ্যাক্স জানিয়েছে, অব্যবহৃত কভিড-১৯ ডোজের জন্য কানাডা থেকে ৩৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার পাবে তারা।

চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক বায়োটেক তাদের কভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ পেয়েছে। বেইজিং কোম্পানি সিনোভ্যাক বায়োটেক ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চীনের সিনো বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের কাছ থেকে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন করোনাভ্যাক নতুন উৎপাদনের সুবিধার জন্য ৫১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছিল। গত মাসে সিনোভ্যাক ইন্দোনেশিয়ার বায়ো ফার্মার সঙ্গে মিলে ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ ভ্যাকসিন বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা প্রদান করেছে।

লন্ডনের তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা মহামারীর পর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অফারে বৈচিত্র্য আনছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি আবুধাবির শেখ খলিফা মেডিকেল সিটি হাসপাতালের সঙ্গে মিলে ইভুশেল্ডের ওপর একটি বাস্তব প্রমাণ সমীক্ষা পরিচালনা করে, যা দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের রোগীদের কভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এ বছর হেলথ কানাডা কুইবেকভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি মেডিকাগোর উদ্ভিদভিত্তিক কভিড-১৯ ভ্যাকসিন কোভিফেনজের অনুমোদন দেয়। ফরাসি বায়োটেক কোম্পানি ভালনেভা ও জার্মান নির্মাতা আইডিটি বায়োলজিকা ভ্যাকসিনের চাহিদা কমে যাওয়ায় তাদের কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের অংশীদারত্ব চুক্তি শেষ করেছে।