দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক দামে নিম্নমুখিতা অব্যাহত আছে। প্রধান ভোক্তা দেশগুলোয় দুর্বল চাহিদা এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর ব্যাপক সংক্রমণে চীনে দুগ্ধপণ্য কেনাবেচার হার তলানিতে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপের দেশগুলোর চাহিদায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম টানা পঞ্চমবারের মতো কমল।

দুই সপ্তাহ আগে চলতি মাসের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুগ্ধপণ্যের দাম কমে ছয় বছরের সর্বনিম্নে নেমে যায়। সর্বশেষ নিলামে মূল্যসূচক কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

ফনটেরার ফার্মগেট দুধের দামের ওপর ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের বড় প্রভাব রয়েছে। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ ডলারে। এর আগের নিলামে দাম কমেছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ফনটেরার দ্বিতীয় শীর্ষ পণ্য ননীবিহীন গুঁড়ো দুধের দাম অন্যান্য পণ্যের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল ছিল। নিলামে প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ১১৬ ডলারে। আগের নিলামের তুলনায় দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। যদিও এর আগের নিলামে পণ্যটির দাম ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছিল। দামের দিক থেকে চতুর্থবারের মতো ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের তুলনায় ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দাম এগিয়ে।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে মাখনের দাম ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৫০ ডলারে। দুই সপ্তাহ আগের নিলামে পণ্যটির দাম ১২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছিল।

তথ্য বলছে, মার্চের প্রথম নিলামে মাখনের দাম টনপ্রতি ৭ হাজার ৪৮ ডলারে উঠেছিল। এরপর পণ্যটির দাম টনপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৩৫০ ডলার কমেছে।

এদিকে চেডার পনিরের দামও ছিল নিম্নমুখী। পণ্যটির লেনদেন হয়েছে টনপ্রতি ৫ হাজার ৬৩৫ ডলারে। সে হিসেবে দাম দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর আগের নিলামে পণ্যটির দাম ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছিল।

অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যান্ট ছিল একমাত্র পণ্য, যেটির দাম বেড়েছে। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৪৩ ডলারে। আগের নিলামের তুলনায় দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আগের নিলামে পণ্যটির দাম ১২ দশমিক ১ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এবারের নিলামে মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ উত্তোলন করা হয়নি।

নিলামে সর্বোচ্চ ২৭ হাজার ৯০ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ১০০ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান সফলভাবে ২৪ হাজার ২৮৫ টন দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হয়েছে। আগের নিলামের তুলনায় বিক্রি কমেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ওই সময় বিজয়ী ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল ১০৭।

গত সপ্তাহে ফনটেরা ২০২১-২২ মৌসুমের জন্য ফার্মগেট দুধের মূল্য পূর্বাভাস কমিয়ে আনে। প্রতি কেজির দাম ৯ ডলার ১০ সেন্ট থেকে ৯ ডলার ৫০ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে প্রতি কেজির দাম ছিল ৯ ডলার ৩০ সেন্ট থেকে ৯ ডলার ৯০ সেন্ট।

দাম কমলেও সর্বশেষ নিলামের ফলাফলকে ইতিবাচক বলেই বিবেচনা করছেন ফনটেরার অর্থ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মার্ক রিভারস।

তিনি বলেন, বিশ্বে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা এখনো অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এসব পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে নানাভাবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে দুগ্ধপণ্যের সরবরাহ তলানিতে।