এশিয়ার বৃহত্তম বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন জটিলতায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিলিয়নেয়ার গৌতম আদানির একটি যৌথ উদ্যোগ। কেননা মুম্বাইয়ের ধারাভি বস্তির মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান করতে পারেননি তিনি। বিষয়টি উল্লেখ করে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উচ্চাভিলাষী পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এটি নতুন চ্যালেঞ্জ। খবর রয়টার্স।
ধারাভি বস্তি আয়তনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। এখানেই চিত্রায়িত হয়েছিল ড্যানি বয়েলের একাধিক বিভাগে অস্কারজয়ী সিনেমা ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’। মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই বস্তির অবস্থান। সাধারণত এখানকার সংকীর্ণ রাস্তা, আঁটসাঁট ঘর, খোলা নর্দমা ও অপ্রতুল টয়লেটকে ভারতের উন্নয়ন প্রচারণার বিপরীত চিত্র বলে দাবি করেন অ্যাক্টিভিস্টরা।
গত বছর টেন্ডারে ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যের এ প্রকল্প জিতে নেয় আদানি গ্রুপ। যেখানে ২৪০ হেক্টরের বস্তিকে আধুনিক শহরে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে ধারাভি রিডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রাইভেট লিমিটেড (ডিআরপিপিএল)।
তবে আদানির টেন্ডার জিতে নেয়াকে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন চোখে দেখছে। তাদের দাবি, চুক্তির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অযাচিত অনুগ্রহ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রেখে চলা আদানি গ্রুপ, তবে তারা দাবিটি অস্বীকার করেছে।
ধারাভি বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে দুটি নীতি রয়েছে। ২০০০ সালের আগে থেকে এখানে যারা বসবাস করে আসছেন শুধু তারাই বিনামূল্যে বাড়ি পাবেন। অন্যদিকে বিনামূল্যে বাসস্থান পাচ্ছেন না এমন সাত লাখ মানুষের জন্য ৫৮০ একর জমি প্রয়োজন। কিন্তু তাদের বাসস্থানের জন্য বিভিন্ন স্থানীয় ও ফেডারেল সংস্থার কাছে আবেদন করেও জমি নিশ্চিত করা যায়নি। এসব তথ্য জানিয়েছেন ধারাভি রিডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রধান এসভিআর শ্রীনিবাস।
কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সরকারি সংস্থাগুলোর হাতে অনেক জমি থাকলেও নিজস্ব পরিকল্পনার কারণে তারা হস্তান্তরে রাজি হচ্ছে না।
এসভিআর শ্রীনিবাস বলেন, ‘মুম্বাইয়ে জমি পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। বাস্তবিকই আমাদের হাতে এখনো এক ইঞ্চি জমিও আসেনি।’
ভূমি অধিগ্রহণে এ দেরি প্রকল্পের মেয়াদকে প্রভাবিত করতে পারে। তা নিয়ে চিন্তিত কিনা, এমন প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ, জমির সংস্থান ছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হতে পারে না। তাই সময়মতো প্রকল্প শেষ করার জন্য জমির সংস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ধারাভি রিডেভেলপমেন্ট অথরিটির সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলেও আদানি গ্রুপের হাতেই রয়েছে মালিকানার বেশির ভাগ অংশ। তবে ভূমি সমস্যা নিয়ে জানতে ই-মেইল করেও কোনো উত্তর পায়নি রয়টার্স।
গত বছর হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনের পর থেকে বেশ বেকায়দা পরিস্থিতিতে রয়েছে আদানি গ্রুপ। ওই সময় ট্যাক্স হেভেনে বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগ আনা হলে রাতারাতি আদানির সম্পদের পরিমাণ কমে যায়। সম্প্রতি আরেক দফা প্রতিবেদনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয় গ্রুপটির বিরুদ্ধে। এ কারণে ধারাভি বস্তির এ প্রকল্প আদানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যার সঙ্গে ১০ লাখ মানুষের পুনর্বাসনও জড়িত।
প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে গত মার্চে। লক্ষ্য অনুসারে, সাত বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মুম্বাই হলো ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রিয়েল এস্টেট বাজারের একটি, যেখানে আবাসনের দাম আকাশছোঁয়া এবং জমির অভাব রয়েছে। এ কারণে ধারাভি বস্তির পুনর্গঠন মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে।










