বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। রাজধানীর হাটখোলায় এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (এফআইআরসি) আয়োজিত ‘পাবলিক-প্রাইভেট একাডেমিয়া ব্রিজিং ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় গতকাল তারা এ আহ্বান জানান।
যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এফআইআরসি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আখতার হোসেন।
বিশ্লেষকরা বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের বিকল্প নেই। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ উন্নয়ন না করা গেলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ। কঠিন হবে এসডিজিসহ ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।’
দেশে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আখতার হোসেন বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েটরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করছে ঠিকই, কিন্তু তারা ইংরেজিতে ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। জ্ঞান ও দক্ষতায় ঘাটতি থাকার কারণে তারা উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন না। আবার সম্মানজনক মজুরিতে চাকরিও পান না।
সভার কো-চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফআইআরসির চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সরকার দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। কিন্তু কোন খাতে কী ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন সেটি আমাদের জানা নেই। আমাদের প্রচুর বিবিএ/এমবিএ গ্র্যাজুয়েট রয়েছে। কিন্তু বিশেষায়িত শিক্ষায় দক্ষ কর্মী নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগসূত্র না থাকাই এর মূল কারণ।’
এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, ‘নিঃসন্দেহে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তবে সেখানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। এখন সময় এসেছে সমন্বিতভাবে অগ্রসর হওয়ার। এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারকে বলব, এফবিসিসিআই সদস্যভুক্ত যত সমিতি রয়েছে, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও সক্ষমতার তথ্য সংগ্রহ করুন। সেগুলো পর্যালোচনার ভিত্তিতে খাতভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেন তিনি।










