রিসাইক্লিং লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্র ভারতে আরো বেশি বিশালাকার হবে বলে মনে করেন অ্যাটেরো রিসাইক্লিংয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নীতিন গুপ্ত। মূলত বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনেই এসব ব্যাটারি ব্যবহূত হয়। দেশটি এখন আরো বেশি পরিবেশবান্ধব যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

ভারতে বাজার বৃদ্ধির এ সম্ভাবনা বেশ বিশাল। তাদের ব্যাটারি রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ভারতের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার পরিকল্পনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নানা সুযোগ গ্রহণের জন্য ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া ও পোল্যান্ডে লিথিয়াম আয়ন রিসাইক্লিং কারখানা তৈরি করেছে। যে বিষয় খাতটির জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিয়েছে সেটি হলো, বিশ্বব্যাপী এখন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ব্যাপক চাহিদা। বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি তৈরিতে এ ব্যাটারি ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নীতিন যুক্ত করেন, সেই সঙ্গে আরো একটি বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যেটা হলো ব্যাটারির অন্যান্য উপাদান যেমন কোবাল্ট লিথিয়াম, গ্রাফাইট ও নিকেলের সরবরাহ সংকট। এ দুটি বিষয় একত্রিত করলে বোঝা যায় যে, ব্যবসা ও আর্থিক সম্প্রদায়ের কাছে পুনর্ব্যবহারের সঠিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

ভারতে অ্যাটেরোর লিথিয়াম আয়ন রিসাইক্লিং সক্ষমতা প্রতি বছর ৩ হাজার ৫০০ টন। প্রতিষ্ঠানটি চেষ্টা করছে সক্ষমতা বছরের শেষ নাগাদ ১১ হাজার টনে উন্নীত করতে। অ্যাটেরো রিসাইক্লিংয়ের গ্রাহক তালিকায় রয়েছে মারুতি সুজুকি, টাটা মোটরস ও হুন্দাই। গত বছরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সক্ষমতা তিন গুণ বাড়িয়েছে। সেই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা ছিল এক হাজার টন।

অ্যাটেরোর লক্ষ্য রিসাইক্লিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পুঁজিতে রূপান্তর করা। যেহেতু লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার বাড়ছে, সেটা বিশেষ করে ত্বরান্বিত হচ্ছে ইভি আরো বেশি গ্রহণ করার জন্য। জেএমকে রিসার্চের পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির বার্ষিক বাজার এক বছরে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। পরে সেটা ২০৩০ সালে গিয়ে ১৩২ গিগাওয়াট ঘণ্টায় পৌঁছবে, তখন আরো ১০০ কোটি ডলারের রিসাইক্লিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আরো বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ভারতে লিথিয়াম আয়ন রিসাইক্লিং কাজে যুক্ত হতে চেষ্টা করছে। যদিও ক্ষেত্রটি এখন বিকাশের জন্য খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নীতিন গুপ্ত বলেন, নিশ্চয়ই আরো অনেক বিনিয়োগ আসবে এবং আরো অনেক প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তা হতে চাইবে।

ব্যাটারি রিসাইক্লিং করা একটি বাণিজ্যিক সুযোগ, সেটার বেশ বড় পরিবেশগত মূল্যও রয়েছে। ব্যাটারিতে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলো মানুষ ও পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর যদি না সেগুলো ঠিকঠাকমতো বিনষ্ট করা হয়। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির জন্য বিশ্বব্যাপী প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মাইনিং করলে সেটাও পরিবেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

ভারতে ইভি বিক্রেতা ইলেকট্রিক ওয়ান মবিলিটির প্রতিষ্ঠাতা অমিত দাস বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রটিতে প্রবেশ করলে সেটা যে শুধু পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করবে তা-ই নয় বরং ইভি তৈরিতে আরো প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা পালন করবে। তিনি যোগ করেন, যতক্ষণ আপনি উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার এবং সেটার রিসাইক্লিং চক্র পরিপূর্ণ না করছেন ততক্ষণ ইভি গ্রহণ ঠিকমতো কাজ করবে না।