করোনা মহামারীর মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাণিজ্য নিয়ে ভীষণ চাপের মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রেকর্ড দরপতনের জের ধরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটির জ্বালানি তেল খাত। তবে সেই ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্য। মহামারীর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি বাণিজ্য ফুলেফেঁপে উঠেছে। ২০২০ সালজুড়ে মার্কিন এলএনজি রফতানিতে অর্জিত হয়েছে একের পর এক নতুন রেকর্ড। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ নভেম্বরে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি এলএনজি রফতানির রেকর্ড গড়েছে দেশটি। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে এক মাসে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি এলএনজি রফতানির রেকর্ড গড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৮১০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানি হয়েছিল। এর আগে কোনো একক মাসে দেশটি থেকে এত বেশি পরিমাণ এলএনজি রফতানি হয়নি। দেশটি জ্বালানি পণ্যটির সর্বোচ্চ রফতানির সেই রেকর্ড ভেঙেছে গত মাসে।
ইআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৯৪০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানি হয়েছে। সেই হিসাবে রেকর্ড সর্বোচ্চে তুলনায় গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ কোটি ঘনফুট এলএনজি অতিরিক্ত রফতানি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রফতানির ইতিহাসে এটাই এক মাসে সবচেয়ে বেশি এলএনজি রফতানির রেকর্ড। এর মধ্য দিয়ে গত মাসে এলএনজি রফতানি সক্ষমতার ৯৩ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে। দেশটিতে উত্তোলন হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ এলএনজিতে রূপান্তরের পর সমুদ্রপথে রফতানি হয়। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক দেশ। স্ট্যাটিস্টার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৭৫০ কোটি ঘনমিটার এলএনজি রফতানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়লে সংকটে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি খাত। বছরের শুরুর দিকে দেশে দেশে লকডাউন চালু হলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শ্লথ হয়ে আসে। তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি রফতানি কমে যায়। এ ধারাবাহিকতায় বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি কমে ২৬ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যায়। জুন, জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র সক্ষমতার ৫০ শতাংশ এলএনজি রফতানি করতে পারেনি।
এখন আর সেই মন্দা ভাব নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গতি ফিরে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি বাণিজ্য। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। ওই সময় গতি ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি বাণিজ্যে। এর পেছনে অন্যতম কারণ শীত মৌসুম। শীতে এশিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোয় এলএনজির চাহিদা বেড়ে যায়। শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদাও। তাই বাড়তি চাহিদার চাপ সামলাতে শীত শুরুর আগেই এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। শীত মৌসুম শুরুর আগে আগে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে।
প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরের জন্য এলএনজি সম্মিলিত রফতানির প্রাক্কলন বাড়িয়েছে ইআইএ। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৬৫৩ কোটি ঘটফুট এলএনজি রফতানি হতে পারে। জ্বালানি পণ্যটির এ বার্ষিক রফতানি পূর্বাভাস আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ২ শতাংশ বাড়িয়েছে ইআইএ। মূলত করোনা মহামারীর মধ্যেও শীত মৌসুমজুড়ে বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তির দিকে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি রফতানির প্রাক্কলন বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।










