দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাকচালকদের ধমর্ঘট সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১২০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটির শিল্প খাত। উৎপাদন ও সরবরাহ পরিপূর্ণ করতে না পারায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলে সরকারের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি দেশটির অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম এবং ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তা চেয়ে কার্গো ট্রাকার সলিডারিটি ইউনিয়ন এ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সঙ্গে চার দফা আলোচনায় বসেও কোনো সমঝোতায় আসা সম্ভব হয়নি। হাজার হাজার চালকের এ ধর্মঘটের ফলে এখনো উৎপাদিত হওয়া পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম না হওয়ায় সংরক্ষণের কোনো জায়গা নেই স্টিলমেকার পসকোর। তাই বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন স্থগিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। হুন্দাই মোটরসকেও বেশকিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন কমাতে হয়েছে। সরবরাহ কমেছে সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের কাছ থেকেও।
দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় গাড়ি উৎপাদনকারী হুন্দাইয়ের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বের শহর উসলানে থাকা সবচেয়ে বড় উৎপাদন প্লান্ট থেকে তারা সরবরাহ আংশিক ব্যাহত হতে দেখছেন। হুন্দাই মোটরস পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে দৃষ্টি রাখছে। শিগগিরই স্বাভাবিক উৎপাদনে যাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। স্টিল উৎপাদনকারী পসকো বলেছে, আমরা জানি না কত দিন এ দোলাচল চলবে। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল ফার্মও বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে গড়ে দৈনিক ৯০ শতাংশ সরবরাহ নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। কারণ ট্রাকচালকরা উলসান, ইউসো ও দায়েসানের মতো বড় বড় পেট্রোকেমিক্যালের কমপ্লেক্সকেই লক্ষ্য করেছে বলে একটি খাতসংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে। তবে তাদের উৎপাদন কমাতে হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে কোনো পরিষ্কার তথ্য মেলেনি।
প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন সদস্য অথবা ইউনিয়নের ৩০ শতাংশ সোমবারের ওই ধর্মঘটে অংশ নেয় বলে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এ দ্বন্দ্বের ফলে অটোমোবাইল, স্টিল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং সিমেন্ট সেক্টর ৭-১২ জুনের মধ্যে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি ওনের উৎপাদন এবং সরবরাহের ব্যর্থতায় পড়েছে।
যদিও এখনো স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স এবং অন্যান্য সেমিকন্ডাক্টর ফার্মে তেমন বড় কোনো উৎপাদন ব্যাহতের তথ্য মেলেনি। সূত্র বলছে, এ খাত চিপ উৎপাদনের ওপর আসন্ন প্রভাব প্রত্যাশা করছে না। কারণ মূল উপাদানগুলো তাদের কাছে সংগৃহীত রয়েছে।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিকস অ্যান্ড ট্রেডের গবেষক কিম ইয়াং-প্যাং বলেন, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স এবং তাদের সরবরাহকারীদের আনুমানিক অন্তত দুই সপ্তাহের উপযোগী কাঁচামাল মজুদ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য জানায়নি স্যামসাং ও হাইনিক্স।
এ ধর্মঘটের কারণে চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশের রফতানি প্রায় ১৩ শতাংশ কমে গেছে।
সরকার বিক্ষোভরত ট্রাকচালকদের কাজে ফেরত যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আইন প্রণয়নে তাদের দাবি প্রতিফলিত করা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এ দ্বন্দ্ব অবসানের চেষ্টা করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ কাজে সহায়তার জন্য সরকার থেকে সেনাবাহিনীর ১০০ যানবাহন পথে নামানো হয়েছে।










