বিশ্বব্যাপী ব্যাটারি ইলেকট্রিক ভেহিকল (বিইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড ভেহিকলের (পিএইচইভি) বিক্রি ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় জুলাইয়ে ২১ শতাংশ বেড়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান রো মোশন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ সময় ইউরোপে ইভির চাহিদা নিম্নমুখী ছিল। তবে চীনে চাহিদা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

রো মোশনের ডাটা ম্যানেজার চার্লস লেস্টার বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনা ইভি আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। ফলে দেশটির এসএআইসি মোটর করপোরেশনের মালিকানাধীন এমজি মোটর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো জানান, মার্কিন কোম্পানি টেসলা ও চীনা ইভি জায়ান্ট বিওয়াইডির ওপর শুল্কের প্রভাব কম পড়বে। কেননা টেসলা জার্মানির বার্লিনের কারখানায় ইভি উৎপাদন করতে পারে। অন্যদিকে ইউরোপের বাজারে বিওয়াইডির উপস্থিতি সীমিত। ফলে কোম্পানিটির ওপর শুল্কের প্রভাবও হবে খুব সামান্য।

তথ্য বলছে, জুলাইয়ে বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া বিইভি ও পিএইচইভির সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে শুধু চীনে ৮ লাখ ৮০ হাজার ইভি বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। দেশটিতে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে পিএইচইভি বিক্রি গত বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম ইভি নির্মাতা বিওয়াইডির সামগ্রিক বিইভি ১৩ ও পিএইচইভি বিক্রি ৪৪ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে গত বছর থেকে ইউরোপে ইভি বিক্রি কমতির দিকে রয়েছে। অঞ্চলটিতে জুলাইয়েও বিক্রি কমেছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ইইউর বৃহত্তম ইভি বাজার জার্মানিতে সর্বশেষ সাত মাসে ১২ শতাংশ বিক্রি কমেছে। তবে এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ইভি বিক্রি ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।

চার্লস লেস্টার জানান, বিওয়াইডির মজুদে বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে প্লাগ-ইন হাইব্রিড। চলতি মাসেও এ ধরনের ইভি বিক্রিতে রেকর্ড হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বর্ধিত রেঞ্জ ও নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে রিচার্জেবল ব্যাটারিচালিত হাইব্রিড গাড়ির বিক্রিও বাড়ছে।’

গত মাসে চীনে তৈরি ইভি আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করেছে ইইউ। অঞ্চলটির বাণিজ্য কমিশন তদন্ত শেষে জানিয়েছে, বিওয়াইডির ওপর ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ, জিলি ১৯ দশমিক ৯ ও এসএআইসির ওপর ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সম্প্রতি এ শুল্ক বাধাকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) অভিযোগ জানিয়েছে চীন। এছাড়া ইইউ থেকে আমদানি করা একাধিক পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের জন্য তদন্ত শুরু করেছে বেইজিং।