চলতি বছরের এখন পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সেনাবাহিনীর আগ্রাসনে নতুন করে ভূরাজনৈতিক সংকট শুরু হয় বিশ্বে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা দেশগুলো। বিপরীতে রাশিয়াও নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার দ্বন্দ্বের প্রভাব এসে পড়েছে ইতালির ক্ষুদ্র পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। তৈরি পোশাকের মূল্য ফেরত না পাওয়ায় লোকসান গুনছেন ইতালির পোশাক নির্মাতারা। খবর এপি।
বিশ্বের বৃহত্তম বিলাসী পণ্যের উৎপাদক দেশ ইতালি। বিশ্বের ৪০ শতাংশ দামি পোশাক, জুতা ও আনুষঙ্গিক পণ্য তৈরি হয় দেশটিতে। এ খাত থেকে ইতালির বার্ষিক আয় হয় ৯ হাজার ৭০০ কোটি ইউরো (১০ হাজার ১০০ কোটি ডলার)। এ আয়ের মাত্র ৩ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। ইতালির ফ্যাশন শিল্পের মেরুদণ্ড প্রায় ৮০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য হারে আয়ের অংশ পায় এ সংস্থাগুলো। নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপাকে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠানগুলো।
এ বিষয়ে ইতালির ফ্যাশন শিল্প সংঘ কনফার্টিজায়ানাতোর সভাপতি ফাবিও পিয়েত্রেলা বলেন, এ প্রতিষ্ঠানগুলো ৮০ থেকে প্রায় শতভাগ আয় হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতালির মার্চে ও ভেনেতো অঞ্চলে জেলাভিত্তিক জুতা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান অনেকাংশেই রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া আমব্রিয়া ও এমিলিয়া-রোমাগনার বুনন প্রতিষ্ঠানগুলোরও নির্ভরশীলতার জায়গা রাশিয়া। এ জেলাগুলোই সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি ব্যাহত হলে শুধু প্রতিষ্ঠানগুলোরই ক্ষতি হয় না। বরং গোটা সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ে।
ইতালির ফ্যাশন জগতের কয়েকটি পরিচিত নাম হলো গুচি, ভারসেইস ও আরমানি। এ সপ্তাহেই সংস্থাগুলো মিলান শহরে পুরুষদের জন্য পোশাকের নতুন সংগ্রহ উন্মোচন করে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও বেশ কয়েকটি ইতালির প্রতিষ্ঠান রাশিয়ায় ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি সানেনফিল্ড। তিনি বলেন, এরই মধ্যে বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও জার্মানির কাছে পণ্য বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। এর জন্য আমরা তাদের প্রশংসা করছি না।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে যে সংস্থাগুলো রাশিয়ায় ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছে, সেগুলোকে লোভী বলে আখ্যা দিয়েছেন জেফরি সানেনফিল্ড। তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বেনেটন। এক বিবৃতিতে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ সত্ত্বেও রাশিয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে বেনেটন।
বিশ্বায়নের যুগে যেকোনো আন্তঃদেশীয় ঘটনাই গোটা বিশ্বে প্রভাব ফেলে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ব্যাপক প্রভাবিত হবে তা বলাই বাহুল্য। ইতালির পোশাক শিল্প খাতে এ চিত্রই ফুটে উঠেছে। যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার ডামাডোলে আক্রান্ত হয়েছে ক্ষুদ্র পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলো। আয় হারিয়ে বিরাট লোকসানে নিমজ্জিত হয়েছে ইতালির ফ্যাশন শিল্প খাত।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের সূত্রপাত ধরে ফরাসি কনগ্লোমারেট এলভিএমএইচ রাশিয়ায় ১২৪টি দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে দোকান বন্ধ করলেও রাশিয়ায় এলভিএমএইচের ৩ হাজার ৫০০ জন কর্মীকে বেতন দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একই পথ অনুসরণ করেছে স্প্যানিশ ফ্যাশন চেইন জারার মালিকানা সংস্থা ইন্ডিটেক্সও। যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় রাশিয়ায় ইন্ডিটেক্সের প্রায় ৫০২টি দোকান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।










