আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখিতায় সপ্তাহ শেষ করতে যাচ্ছে পণ্যটির বাজার। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জ্বালানি তেলের চাহিদা পূর্বাভাস সংশোধন করে বাড়ানোয় সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে মজুদ কমার প্রভাবও রয়েছে। খবর রয়টার্স।

আইসিই ফিউচারস ইউরোপে গতকাল একদিনের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের ভবিষ্যৎ সরবরাহমূল্য ৫৯ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৪ ডলার ৮৩ সেন্টে। গত বৃস্পতিবার প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলারে উঠেছিল, যা গত নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫৬ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮০ ডলার ৭০ সেন্টে।

জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ভান্ডানা হারি বলেন, ‘‌চার মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার পর এখন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহমূল্য কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। তবে দাম কমার মাত্রা খুবই সীমিত।’

গত মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৮০-৮৪ ডলারের মধ্যেই ওঠানামা করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ চাহিদা পূর্বাভাস বাড়ানোর পর এ ধারায় ভাটা পড়ে। নভেম্বরের পর থেকে এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ২০২৪ সালের চাহিদা পূর্বাভাস বাড়াল সংস্থাটি। লোহিত সাগরে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই চাহিদা পূর্বাভাস বাড়ানো হচ্ছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে দাম।

আইইএর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে, যা গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় দৈনিক ১ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল বেশি।

সাধারণত ডলারের বিনিময় হার বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে দাম কমে যায়। তবে সম্প্রতি ডলারের বিনিময় হার বেড়ে প্রায় দুই মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছলেও অন্যান্য বাজার প্রবণতার কারণে জ্বালানি তেলের দাম না কমে উল্টো বাড়ছে।

রাশিয়ার জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলাও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান বাজার পর্যবেক্ষকরা। এ হামলায় রসনেফটের বৃহৎ পরিশোধনাগার পুড়ে গেছে। এটিকে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বড় হামলা বলেও আখ্যা দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ অপ্রত্যাশিতভাবে কমে গেছে। পরিশোধনের পরিমাণ বাড়ার কারণেই মূলত এমনটি ঘটেছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে কমেছে গ্যাসোলিনের মজুদও।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কবে নাগাদ সুদহার কমাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাকে প্রাধান্য দিচ্ছে চীন। শীর্ষ জ্বালানি তেল ব্যবহারকারী দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমুখী সুদহার গ্রাহকের ঋণ ব্যয় কমিয়ে দেয়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। পাশাপাশি বাড়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা।