ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানিতে এখন আমদানিকারকদের বাড়তি অর্থ গুনতে হবে। কেননা অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানিতে প্রতি টনে তিন গুণের বেশি আরোপিত কর বসিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। এর আগে অপরিশোধিত পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক বাড়িয়েছে দেশটি। ফলে বাড়তি রফতানি শুল্ক ও আরোপিত কর মিলিয়ে ইন্দোনেশীয় পাম অয়েলের আমদানি ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যাবে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ও জাকার্তা পোস্ট।
আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানিতে আমদানিকারকদের টনপ্রতি ৫৫ ডলার কর দিতে হতো। দেশটির সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে এ করহার টনপ্রতি ১৮০ ডলার। ১০ ডিসেম্বর থেকে নতুন এ করহার কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩০ নভেম্বর অপরিশোধিত পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক বাড়িয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।
করোনাকালে রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে অন্যতম শীর্ষ রফতানি পণ্য পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক ন্যূনতম পর্যায়ে রেখেছিল ইন্দোনেশিয়া। শুল্ক দিতে হতো টনপ্রতি ৩ ডলার। ডিসেম্বর থেকে এ শুল্কহার বাড়িয়ে টনপ্রতি ৩৩ ডলার পুনর্নির্ধারণ করেছে দেশটি।
একদিকে ৩৩ ডলার রফতানি শুল্ক, অন্যদিকে ১৮০ ডলার আরোপিত কর—সব মিলিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করতে হলে আমদানিকারকদের দেশটির সরকারকে টনপ্রতি মোট ২১৩ ডলার পরিশোধ করতে হবে। আগে এর পরিমাণ ছিল সাকল্যে ৫৮ ডলার। সেই হিসাবে ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে ইন্দোনেশীয় পাম অয়েল আমদানিতে আমদানিকারকদের টনপ্রতি বাড়তি ১৫৫ ডলার গুনতে হবে।
অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানিতে ইন্দোনেশিয়া সরকারের আরোপ করা নতুন এ করহার ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে গিয়েছে। মালয়েশিয়াভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী জানান, অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানিতে ইন্দোনেশিয়া সরকার শুল্ক বাড়াচ্ছে, এটা আগেই জানা গিয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীরা টনপ্রতি ৮০-১৮০ ডলার আরোপিত কর দিতে প্রস্তুত ছিলেন। ইন্দোনেশিয়া সরকার প্রত্যাশার সর্বোচ্চ হারে করারোপ করেছে।
এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাজার বিশ্লেষক সাথিয়া ভারকা বলেন, অপরিশোধিত পাম অয়েলের আরোপিত কর বৃদ্ধির বিষয়টি কেবল প্রত্যাশার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। যদিও দামের প্রতিযোগিতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি কোনো গেম চেঞ্জার নয়।
ভারতের সানভিন গ্রুপের বাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান অনিল কুমার বাগানি বলেন, ইন্দোনেশিয়া সরকার পাম অয়েল রফতানিতে বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত আরোপিত কর সংশোধন করেছে। যদিও নতুন করহার তুলনামূলক বেশি। তবে এটি ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান হতে পারে। কেননা পাম অয়েলের সম্ভাব্য বাজারপ্রবণতা ভারতীয় ও চীনা আমদানিকারকদের ভবিষ্যতের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে অপরিশোধিত পাম অয়েলের আরোপিত কর বৃদ্ধির খবরে সেটি কার্যকর হওয়ার আগেই তাত্ক্ষণিক রফতানি করার প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন পণ্যটির আমদানি ও রফতানিকারকরা। এতে পণ্যবাহী জাহাজস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি জাহাজ হঠাৎ করে ইন্দোনেশিয়া থেকে মালয়েশিয়ায় অপরিশোধিত পাম অয়েল পরিবহনের জন্য ছুটে গেছে। আমদানিকারকরা মূল্যবৃদ্ধির আগে যত দ্রুত সম্ভব ইন্দোনেশিয়া থেকে অপরিশোধিত পাম অয়েল বের করে আনার চেষ্টা করছেন।










