চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের চাল রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় খাতটি থেকে দেশটির আয় হয়েছে ৪৭ কোটি ৫ লাখ ৮৪ হাজার ডলার। যেখানে গত বছর দেশটির আয় ছিল ৩১ কোটি ২১ লাখ ৪৭ হাজার ডলার। বর্তমানে দেশটির এ খাত থেকে বার্ষিক আয় ২০০ কোটি ডলারের বেশি। তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চাল রফতানি থেকে ৫০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পাকিস্তান। সেজন্য চাল রফতানি বাড়াতে জোরেশোরে কাজ করছে ইসলামাবাদ। খবর এপি ও এপিপি।

পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পাকিস্তান থেকে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৬ টন চাল রফতানি হয়। চলতি অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৫৬ টন।

এছাড়া বছরের বাকি প্রান্তিকগুলোয় চালের রফতানি আরো বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি রাইস এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের (আরইএপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককালে সরকারের চাল রফতানি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির শিল্প, বাণিজ্য ও উৎপাদন এবং টেক্সটাইল ও বিনিয়োগ বিষয়কমন্ত্রী আব্দুল রাজাক দাউদ। চাল রফতানি বাড়াতে কী ধরনের কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন, সেটি ঠিক করতেই এ বৈঠকের আয়োজন।

বৈঠকে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পাকিস্তান কৃষিপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় চাল। সেজন্য এ খাত থেকে রফতানি আয় আরো বাড়াতে আরইএপির পক্ষ থেকে দেয়া সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে সরকার। একই সঙ্গে চাল রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা আছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়

ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধান করা হবে।

চাল রফতানি বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়টি উল্লেখ করে রাজাক দাউদ আরো বলেন, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ দুটিতে পাকিস্তানের চাল রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এছাড়া সরকার এ যাবত্কালের সর্বোচ্চ পরিমাণ চাল রফতানি করতে চায়। এজন্য এরই মধ্যে পুরনো বাজারে রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বাজারের সন্ধানেও কাজ করছে সরকার।

সরকারের এ লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে নতুন জাত আবাদের মাধ্যমে চালের উৎপাদন বাড়াতে এবং মানসম্মত চাল উৎপাদন করতে রফতানিকারকদের প্রতি এ খাতে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান রাজাক দাউদ।

অন্যদিকে সম্প্রতি ইরান, কাতার ও চীনের বাজারে অতিরিক্ত চাল রফতানির সুযোগ পেয়েছে পাকিস্তান। এ কারণে আগামীতেও এসব বাজারে চাল রফতানি অব্যাহত রাখতে এবং বাড়াতে মানসম্মত চাল রফতানির আশ্বাস দেন রফতানিকারকরা।

সাম্প্রতিক সময়ে চাল রফতানির বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের প্রতিবেদনেও। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি থেকে ২ লাখ ১২ হাজার ৮৭৩ টন বাসমতি চাল রফতানি হয়েছে। এর বিপরীতে এ সময় দেশটির আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৪৬ লাখ ৬৯ হাজার ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে বাসমতি চালের রফতানি ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৯ টনের মতো। এ সময় এ খাত থেকে দেশটির হয় ১৩ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ডলার। সে হিসাবে দেশটি থেকে শুধু বাসমতি চালের রফতানি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ২৯ শতাংশ।